নরসিংদী জেলা হাসপাতালে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পিএসএ (প্রেশার সুইং অ্যাডসর্পশন) অক্সিজেন প্ল্যান্ট এখনো রোগীদের কোনো কাজে আসেনি। সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনের সঙ্গে সংযোগ না থাকায় প্ল্যান্টটি পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়।
জানা যায়, উৎপাদিত অক্সিজেন পৌঁছানো যাচ্ছে না হাসপাতালের ওয়ার্ডে। এর ফলে প্রায় ১০ থেকে ১৫ গুণ বেশি দাম দিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয় মেডিকেল অক্সিজেন কিনতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে প্ল্যান্টটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এতে অক্সিজেন উৎপাদন ও সিলিন্ডারে ভরার সক্ষমতা রয়েছে। হাসপাতালের চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত অক্সিজেন সিলিন্ডারে ভরে ১৫ থেকে ২০ দিনের ব্যাকআপ রাখারও সক্ষমতা রয়েছে। তবে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনের সঙ্গে সংযোগ না থাকায় উৎপাদিত অক্সিজেন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্ল্যান্টটির সঙ্গে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনের সংযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, আগামী দুই মাসের মধ্যে এ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। জেলার অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানও এই প্ল্যান্ট থেকে অক্সিজেন নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে কম খরচে নিরবচ্ছিন্ন মেডিকেল অক্সিজেন সরবরাহের লক্ষ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলায় পিএসএ অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। নরসিংদীর পাশাপাশি আরও ২১ জেলায় ২৯টি পিএসএ অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসব প্ল্যান্ট পরিচালনার বিভিন্ন পদে ১৫৩ জন কর্মী কাজ করছেন।
নিরবচ্ছিন্ন ও তুলনামূলক কম খরচে সরকারি হাসপাতালগুলোতে মেডিকেল অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এসব প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় পিএসএ অক্সিজেন প্ল্যান্ট নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৭০ কোটি টাকা।

চলতি মাসেই প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এতে কর্মরতদের মধ্যে চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পের আওতায় কর্মরত জনবলকে আগামী তিন বছরের জন্য রাখার বিষয়টি ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে সরকারি হাসপাতালে কম খরচে অক্সিজেন সরবরাহের পাশাপাশি সরকারের ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।