হঠাৎ বুকে তীব্র যন্ত্রণা, শ্বাসকষ্ট কিংবা প্রচণ্ড চাপ অনুভব করছেন এবং সেই মুহূর্তে বাড়িতে একদম একা—এমন পরিস্থিতি যেকোনো মানুষের জন্যই অত্যন্ত ভীতিকর। চিকিৎসকদের মতে, বুকে ব্যথা সবসময় হার্ট অ্যাটাক না হলেও একে সামান্যতম অবহেলা করাও জীবনঘাতী হতে পারে। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রথম এক ঘণ্টা বা ‘গোল্ডেন আওয়ার’ রোগীর জীবন বাঁচানোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বজুড়ে অকাল মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এই হার্ট অ্যাটাক। তাই বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের পূর্বপ্রস্তুতি ও জরুরি পদক্ষেপ সম্পর্কে জেনে রাখা জরুরি।
আচমকা একা থাকা অবস্থায় হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে জীবন রক্ষার্থে তিনটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা:
১. অবিলম্বে জরুরি সেবা ও নিকটস্থদের ফোন করা:
হৃদযন্ত্রে কোনো সমস্যা দেখা দিচ্ছে বুঝতে পারামাত্রই প্রথম কাজ হলো এমন কাউকে ফোন করা, যিনি দ্রুততম সময়ে আপনার কাছে পৌঁছাতে পারবেন। একই সাথে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসাসেবা পেতে জাতীয় হেল্পলাইন ‘৯৯৯’ নম্বরে অথবা সরাসরি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ফোন করতে হবে।
২. ঘরের দরজা-জানালা খুলে দেওয়া:
যতক্ষণ না অ্যাম্বুলেন্স এসে পৌঁছায়, ততক্ষণ নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। সম্ভব হলে বদ্ধ ঘর থেকে বেরিয়ে খোলা জায়গায় বা যেখানে পর্যাপ্ত হাওয়া-বাতাস চলাচল করে, এমন স্থানে যেতে হবে। ঘরের ভেতরে থাকলে দ্রুত ঘরের দরজা ও জানালা খুলে দিতে হবে, যাতে বাইরে থেকে কেউ সহজে ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।
৩. নিরাপদ স্থানে বসা বা শুয়ে পড়া:
হঠাৎ মাথা ঘুরে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গিয়ে যাতে নতুন কোনো চোট বা আঘাত (সেকেন্ডারি ইনজুরি) না লাগে, সে জন্য দ্রুত কোনো নিরাপদ স্থানে বসে বা শুয়ে পড়তে হবে। পা দুটি সামান্য উঁচু করে সোফা বা বিছানায় শুয়ে পড়লে অনেকের ক্ষেত্রে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া সহজ হয়।
বিশেষজ্ঞের বিশেষ পরামর্শ (অ্যাসপিরিন ব্যবহার):
প্রখ্যাত কার্ডিয়াক সার্জন ডা. জেরেমির মতে, ঘরে সবসময় একটি অ্যাসপিরিন (Aspirin) ওষুধ হাতের কাছে রাখা উচিত। হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে এই ট্যাবলেটটি পানি দিয়ে গিলে না ফেলে চিবিয়ে খেলে তা রক্তে দ্রুত কাজ শুরু করে এবং হৃদপিণ্ডের ধমনিতে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। তবে যাদের অ্যাসপিরিনে অ্যালার্জি রয়েছে কিংবা শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের (ইন্টারনাল ব্লিডিং) সমস্যা আছে, তাদের এটি সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলতে হবে।