বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ১১ শয্যাবিশিষ্ট নতুন আরেকটি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালু করা হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সি ব্লকের ১০ম তলায় এই আইসিইউ উদ্বোধন করা হয়। একইসঙ্গে, ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ৮১ নার্সের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি জানান, ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রশিক্ষণের মেয়াদ আরও দীর্ঘ এবং আধুনিকায়নের বিষয়ে বিএমইউ প্রশাসন থেকে সব রকমের সহায়তা প্রদান করা হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নির্ভর করে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপরে। মুমূর্ষু রোগীদের সেবায় প্রশিক্ষিত ও দক্ষ নার্সিং সেবার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। এখানে নার্সিং সেবার প্রতিটা মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ। রোগীদের প্রয়োজনেই এ ধরণের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে।
বিএমইউতে বিশ্বের আপডেটেড টেকনোলজি সমৃদ্ধ সকল ধরণেরই যন্ত্রপাতি প্রতিটি বিভাগে যুক্ত করার কার্যকরী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন উপাচার্য।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, নার্সিং পেশা বিশ্বে একটি হাইস্কিলড ও নোবেল প্রফেশন। জ্ঞানে, প্রশিক্ষণে ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নার্সরা যাতে রোগীদের সেবায় সবটুকু দিতে পারে সে লক্ষ্যে বিএমইউ প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। বিদেশে আমি দেখেছি, যেমন—অস্ট্রেলিয়ায় বলতে গেলে নার্সরাই হসপিটাল চালায়। চিকিৎসকরা যে নির্দেশনা দেন নার্সবৃন্দ তা বাস্তবায়ন করেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিএমইউ’র রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল জানান, অ্যানেসথেসিয়া, ক্রিটিক্যাল কেয়ার এবং নার্সিং—এই তিন বিষয়কেই সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেয়া সময়েরই দাবি।

তিনি আরও বলেন, অ্যানেসথেসিয়া, অ্যানালজেসিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন—বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬টি বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত, জনবল ও কর্মপরিধিতে অগ্রগামী একটি বিভাগ। একসময় শুধুমাত্র অস্ত্রোপচারে অচেতন করার পদ্ধতি হিসেবে শুরু হওয়া এই বিভাগ এখন প্রি অপারেটিভ কেয়ার, পেইন মেডিসিন, ক্রিটিক্যাল কেয়ার, ইমারজেন্সি কেয়ার, রিসাসসিয়েশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।