দেশে চলমান ডেঙ্গু ও হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসাসেবা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। এছাড়া, স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা বন্ধএবং স্বাস্থ্য খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসাইন মানিক মিয়া হলে এবি পার্টি ডক্টরসের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব দাবি জানানো হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. (অব.) মেজর ওহাব মিনার। ডা. রাশেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মো. মোজাহেরুল হক, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব ডা. মো. আবদুল আহাদ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) নেতা ডা. মারুফ শাহরিয়ার প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে টিকাদান, হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার তদন্ত, মশক নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর আইন প্রণয়ন এবং সরকার, চিকিৎসক ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. ওহাব মিনার বলেন, হাম ও রুবেলার টিকাদানে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বেড়েছে।
তিনি বলেন, টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে অব্যবস্থাপনা, টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন এবং সময়মতো ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইন না হওয়াকে তিনি বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, কীটনাশকের কার্যকারিতা যাচাই, নির্মাণাধীন ভবন ও ড্রেনে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ডেঙ্গু মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকার হামের টিকাদান সম্প্রসারণে উদ্যোগ নিলেও আরও আগে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মো. মোজাহেরুল হক বলেন, ডেঙ্গু ও হাম মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি হাসপাতালের জরুরি বিভাগগুলোকে কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসাসেবায় অনিয়ম ও অপচিকিৎসার অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, স্বাস্থ্য খাতের সংকটকে কেবল চিকিৎসকদের ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। হাসপাতালের অবকাঠামো, পরিবেশ, জনবল ও ব্যবস্থাপনার দায় রাষ্ট্রেরও রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার মান বাড়াতে নীতিনির্ধারক ও সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের বাধ্যবাধকতা চালুর প্রস্তাবও দেন তিনি।

হামের টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্নের কারণ অনুসন্ধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, টিকাদান কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা ও ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কোনো ধরনের অবহেলা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ বলেন, ডেঙ্গু ও হামের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং চিকিৎসক-নার্সের সংকট রোগীদের যথাযথ সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষায়িত হাসপাতাল বা পৃথক চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলা, রোগের মৌসুম শুরুর আগেই প্রস্তুতি নেওয়া এবং স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, টিকার বাইরে থাকা শিশুদের শনাক্ত করে টিকাদানের আওতায় আনতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের নেতা ডা. মারুফ শাহরিয়ার বলেন, ডেঙ্গু ও হামের বিষয়ে সঠিক তথ্য ও সচেতনতামূলক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। রোগের কারণে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ভয় ও মানসিক চাপ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।