ডেঙ্গুর টিকা সরকারিভাবে আনার উদ্যোগ না থাকলে বেসরকারিভাবে আমদানির সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এতে মানুষ অন্তত বাঁচার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ হাতে পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আজ রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর হাতিরঝিলের মধুবাগ মাঠে জামায়াত আয়োজিত ‘৪ থেকে ১০ অক্টোবর দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির বলেন, সরকারিভাবে টিকা আনার যদি উদ্যোগ না থাকে, তাহলে বেসরকারিভাবে আনার রাস্তা খুলে দেন। এতে অন্তত মানুষ বাঁচার জন্য উপকরণ হাতে পাবে। কিন্তু সরকার নিজেও আনবে না, বাজারও খুলে দেবে না। আর যদি তারা আনেও, তাহলে ঘাটে ঘাটে কমিশন বসিয়ে জনগণের পয়সা চুরি করবে।

দেশে হাম ও ডেঙ্গুতে এতো লোকের মৃত্যু জন্য সরকারকে দায় ও ব্যর্থতা স্বীকার করার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর আগে হামে মৃত্যুর ঘটনায় সরকার অতীতের সরকারকে দায় দিয়েছে। কিন্তু এ সরকার গত সাত মাসে কী করল? এখনো হামে ও ডেঙ্গুতে লোক মরে কেন? ব্যর্থতা স্বীকার করে নেন।
সরকারকে মানুষের জীবন রক্ষায় অতি দ্রুত মশা নিধনের বাস্তব কর্মসূচি গ্রহণে আহ্বান জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সামাজিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও আক্রান্ত লোকদের সুষ্ঠু চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে কেউ অবহেলার শিকার না হয়। পরে তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সংবলিত লিফলেট ও ব্লিচিং পাউডার জনগণের মধ্যে বিতরণ করেন।

তিনি বলেন, আমরা বিরোধী দলে থাকলেও আমাদেরও দায়িত্ব আছে। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নয়, কার্যত দেশের সকল প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত অবস্থায় আছে। সরকারকে নামতে হবে, জনগণের দায়িত্ব নিতে হবে। সরকারকে ঘুমাতে দেবো না, ধাক্কা দিয়ে ঘুম ভাঙিয়ে দেবো।
সরকারের কাজ ঘুমানো নয় মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণ শান্তিতে ঘুমাবে আর সরকার পাহারা দেবে- এটি সরকারের কাজ। সেই সরকার জনগণকে শান্তি দিতে পারে না, যে সরকারের অধীনে জনগণ নিরাপদে ঘুমাতে পারে না সেই সরকারের দরকার নেই।

ঢাকায় বিমান বন্দরে সীমাহীন দুর্নীতি, অপকর্মের প্রতিবাদ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সেদিন বিমানবন্দরে দলের ৩৪ জন সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে। আখতারুজ্জামনাকে উত্ত্যক্ত করা হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আখতারুজ্জামান কথা বলেছেন ভুক্তভোগী ও দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখা প্রবাসীদের জন্য। যাদের ব্যাগ কেটে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করা হয়। তিনি এসবের প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। তাকে হাতকড়া পরানো হয়েছে। অপমান করার জন্য হেলমেট পরানো হয়েছে। আমরা এসবের নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।