দেশের সরকারি হাসপাতাগুলোতে রোগীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে বেসরকারি হাসপাতালের শয্যা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ চিকিৎসাসেবা কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে ঢাকার চারটি বেসরকারি হাসপাতালকে এ উদ্যোগের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় চুক্তিবদ্ধ বেসরকারি হাসপাতালে সরকারি হাসপাতাল থেকে নির্বাচিত রোগী পাঠানো হবে। এক্ষেত্রে চিকিৎসার ব্যয় বহন করবে সরকার।
আজ রোববার (৪ অক্টোবর) স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রাইভেট হাসপাতালে বেডের তুলনায় রোগী কম। তাই সরকারি হাসপাতাল থেকে সেখানে রোগী পাঠানো হলে চাপ অনেকটা কমবে।

প্রস্তাবিত উদ্যোগের আওতায় প্রাথমিকভাবে ঢাকার চারটি বেসরকারি হাসপাতালকে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেগুলো- হলো তেজগাঁওয়ের শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ইমপালস হাসপাতাল, গুলশানের সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সরকারি হাসপাতালের কিছু রোগীকে চুক্তিবদ্ধ বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হবে। সেখানে শয্যা, চিকিৎসক, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। রোগীদের কাছ থেকে এসব সেবার জন্য অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হবে না; সরকারি হাসপাতালের মতোই বিনা খরচে চিকিৎসা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মাস শেষে হিসাব যাচাই করে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালকে বিল পরিশোধ করবে সরকার।

প্রাথমিক পর্যায়ে মেডিসিন, শিশু বিভাগ এবং ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে—এমন রোগীদের পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেবার মূল্য নির্ধারণ, বিল পরিশোধ এবং হাসপাতাল তদারকির পদ্ধতি নিয়ে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরির কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারি হাসপাতালে রোগীদের জন্য যেসব সেবা বিনা মূল্যে পাওয়া যায়, চুক্তিবদ্ধ বেসরকারি হাসপাতালেও সেগুলো একইভাবে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেবার পরিধি, ব্যয় নির্ধারণ এবং রোগী স্থানান্তরের বিস্তারিত শর্ত চূড়ান্ত নীতিমালা ও চুক্তির ওপর নির্ভর করবে।

এছাড়া, স্বাস্থ্য বিভাগ ঢাকার পাশাপাশি চট্রগ্রাম ও সিলেটে কয়েকটি হাসপাতাল থেকে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় সেবা ক্রয়ের চিন্তা করছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।