জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটিতে এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় হার্টের রিং বিক্রির মূল্য তালিকাসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করার কথা জানিয়েছে দুদক।
এ বিষয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম হাসপাতালটিতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় রোগীদের হার্টে ব্যবহৃত স্টেন্টের মূল্য, সরবরাহ ব্যবস্থা, রোগীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হার্টের রিং পরানো রোগীদের কাছ থেকে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা হয়রানি করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করে দুদক। অভিযানে পাওয়া তথ্য ও সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

অভিযোগ রয়েছে, হৃদরোগের চিকিৎসায় জরুরি ভিত্তিতে স্টেন্ট বা রিং প্রয়োজন হলে রোগী ও স্বজনদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এ সুযোগে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে রিং বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর স্বজনদের রিংয়ের কোম্পানি, মূল্য ও বিকল্প সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না দিয়েই নির্দিষ্ট কোম্পানির স্টেন্ট কিনতে বলা হয়। এছাড়া, চিকিৎসক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কমিশনভিত্তিক লেনদেনের মাধ্যমে স্টেন্টের দাম বাড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রোগীর স্বজনদের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র এ ধরনের অনিয়ম করে আসছে। একটি রিং ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা মোটা অঙ্কের কমিশন পেয়ে থাকেন। কখনো কখনো কমিশনের একটি অংশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের কাছেও যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।