দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকেই শুরু হবে ডেঙ্গুর ‘পিক সিজন’। ডেঙ্গু হলে খাদ্যাভাসের প্রতি সতর্ক হওয়া উচিত। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে শরীরে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে। তাই এ সময় পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের পাশাপাশি সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাভাবিক খাবার সময় যথেষ্ট হলেও খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রাখা জরুরি। বিশেষ করে পানি, স্যুপ, ডাবের পানিসহ তরল খাবার বেশি খেতে হবে।
ডেঙ্গুতে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ধরে রাখতে প্রোটিন, ভিটামিন বি১২, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি, আয়রন, ভিটামিন ডি, জিংক ও ফসফরাসসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উপকারী। ডিম, সামুদ্রিক মাছ, ব্রকলি, ফুলকপি, ক্যাপসিকাম, পালংশাক, বাদাম, বিট, মটরশুঁটি, কলা, তরমুজ, পেঁপে, লেবু ও মাল্টায় এসব পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।

ফলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন বি১২ রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে কোনো নির্দিষ্ট খাবার খেলেই অণুচক্রিকার সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়—এমন দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। পেঁপের জুস অণুচক্রিকা বাড়ায়—এমন প্রচলিত ধারণা থাকলেও এ বিষয়ে বড় পরিসরের গবেষণা এখনো সীমিত।
ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য চিকেন ভেজিটেবল স্যুপও ভালো খাবার হতে পারে। এতে ব্রকলি, মটরশুঁটি, ক্যাপসিকাম ও বিটের মতো সবজি যোগ করা যায়। স্যুপ শরীরে তরল সরবরাহের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি দিতে পারে। টক দইও খাওয়া যেতে পারে। এতে থাকা তরল ও প্রোবায়োটিক পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে।

ভাতের মাড়ও তরল খাবার হিসেবে গ্রহণ করা যায়। এর সঙ্গে সেদ্ধ সবজি ও সামান্য লেবুর রস যোগ করা যেতে পারে। জাম্বুরা ভিটামিন সি ও পটাশিয়ামের উৎস। আনারের জুসেও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তবে জাম্বুরা বা আনারের জুসকে ডেঙ্গুর চিকিৎসা কিংবা অণুচক্রিকা বাড়ানোর নির্দিষ্ট উপায় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
কচি ডাবের পানি সোডিয়াম, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন ইলেকট্রোলাইটের উৎস। তাই ডেঙ্গুতে এটি তরল গ্রহণের একটি উপায় হতে পারে। তবে অতিরিক্ত ডাবের পানি পান না করে রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করা উচিত।

চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ডেঙ্গু হলে স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি তরল খাবারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়া দরকার।
অন্যদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত অবস্থায় অতিরিক্ত মসলাদার ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। এসব খাবার হজমে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বমি, বমি ভাব বা পেটের সমস্যা থাকলে সহজপাচ্য খাবার বেছে নেওয়া উচিত।

ডেঙ্গুতে খাবারের পাশাপাশি বিপদের লক্ষণগুলোর দিকেও নজর রাখা জরুরি। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, রক্তবমি বা পায়খানায় রক্ত এবং অতিরিক্ত তৃষ্ণা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জ্বর কমে গেলেই রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।