পাইলসের চিকিৎসার পর সাধারণত রোগীরা অনেকটাই স্বস্তি পান। রক্তপাত বন্ধ হয়, মলত্যাগ সহজ হয় এবং ব্যথা-অস্বস্তিও কমে আসে। তবে কয়েক মাস বা কিছু সময় পর একই ধরনের উপসর্গ আবার দেখা দিলে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—পাইলস কি আবার ফিরে এসেছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসর্গ ফিরে আসার অর্থ সব সময় চিকিৎসা ব্যর্থ হয়েছে এমন নয়। পাইলস পুনরায় দেখা দেওয়ার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া, অনিয়মিত শৌচাগারের অভ্যাস কিংবা মলদ্বারের অন্য কোনো সমস্যাও এর জন্য দায়ী হতে পারে।
১. মূল কারণের সমাধান না হওয়া
পাইলসের চিকিৎসা করা হলেও এর পেছনের কারণগুলো অনেক সময় থেকেই যায়। যেমন দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে শক্ত মল ত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দিতে হয়, যা মলদ্বারের শিরাগুলোর ওপর পুনরায় চাপ সৃষ্টি করে। পাবমেডে প্রকাশিত ২০২২ সালের একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পাইলসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কার্যকরী কোষ্ঠকাঠিন্যের হার সাধারণ মানুষের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। গবেষকদের মতে, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পেলভিক ফ্লোরের সমন্বয়জনিত সমস্যা দূর করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।

২. পুরনো অভ্যাসে ফিরে যাওয়া
চিকিৎসার সময় অনেকেই বেশি পানি পান করেন, আঁশযুক্ত খাবার খান এবং শৌচাগারে কম সময় কাটান। কিন্তু উপসর্গ কমে গেলে এসব স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ধীরে ধীরে বাদ পড়ে যায়। কম আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি না পান করা, মলত্যাগের তাগিদ চেপে রাখা কিংবা বারবার চাপ দেওয়ার মতো অভ্যাসগুলো পাইলসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া দীর্ঘ সময় টয়লেটে বসে থাকা, বিশেষ করে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে করতে সময় কাটানোও ক্ষতিকর হতে পারে। ফ্রন্টিয়ার্স ইন সার্জারিতে ২০২৫ সালে প্রকাশিত ৫৮০ জনের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, মলদ্বারের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ২০ মিনিটের বেশি সময় টয়লেটে বসে থাকার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।
৩. আক্রান্ত টিস্যুর কিছু অংশ থেকে যাওয়া
সব ধরনের চিকিৎসায় আক্রান্ত টিস্যু সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা সম্ভব হয় না। পাইলসের আকার, সংখ্যা এবং চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে কখনও কখনও ধাপে ধাপে চিকিৎসা দিতে হয়। ফলে কিছু আক্রান্ত টিস্যু থেকে যেতে পারে, যা পরবর্তীতে আবার উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে। তাই চিকিৎসার পর অল্প সময়ের মধ্যে সমস্যা ফিরে এলে নতুন করে পাইলস হয়েছে ধরে নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৪. অন্যান্য কারণেও চাপ বাড়তে পারে
কেবল মলত্যাগের অভ্যাসই নয়, আরও কিছু শারীরিক অবস্থাও মলদ্বারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী কাশি, স্থূলতা, গর্ভাবস্থা, ভারী জিনিস বহন করা এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকার মতো বিষয়গুলো পাইলসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এসব কারণ যদি থেকে যায়, তাহলে শুধু পাইলসের চিকিৎসা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান নাও হতে পারে। তাই রোগটি বারবার ফিরে এলে এর অন্তর্নিহিত কারণগুলো খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ।
৫. নতুন উপসর্গ সব সময় পাইলস নাও হতে পারে
আগে পাইলস হওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলে অনেকেই নতুন করে রক্তপাত, ব্যথা বা ফোলাভাব দেখা দিলেই সেটিকে পাইলসের পুনরাবৃত্তি বলে মনে করেন। তবে বাস্তবে মলদ্বারের আরও বিভিন্ন রোগ একই ধরনের উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে।

রক্তপাত, ব্যথা, ফোলাভাব বা অস্বস্তি সব সময় পাইলসের কারণে হয় না। তাই নতুন উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইলসের চিকিৎসার পর সুস্থ থাকতে হলে কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।