দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন ধরনের তামাক (ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) ও নিকোটিন পাউচ) গ্রহণের মাত্রা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বয়স যাচাইয়ের ঘাটতি এবং অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অবাধ প্রচারণা এসব পণ্যের প্রতি তরুণদের আকৃষ্ট করছে।
বিশেষ করে, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের ২৮ দশমিক ১ শতাংশ অন্তত একবার এসব তামাক পণ্য ব্যবহার করেছেন। নিয়মিত ব্যবহার করছেন ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। নতুন তামাকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ই-সিগারেট। ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ তরুণ এটি ব্যবহার করেছেন।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের পরিচালিত এক অনলাইন জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সিরাজড্যাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়।

জরিপে উঠে আসে, সাধারণ সিগারেটের সঙ্গে নতুন তামাক পণ্যের ব্যবহারও বাড়ছে। সাধারণ ধূমপায়ীদের ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ ই-সিগারেটসহ এসব পণ্য ব্যবহার করছেন। অথচ অধূমপায়ীদের মধ্যে এ হার মাত্র ১ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ প্রচলিত তামাকের ব্যবহার থেকেই নতুন ধরনের তামাক পণ্যে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা স্পষ্ট।
জরিপের ফলে বলা হয়, বন্ধুর চাপ ও সামাজিক প্রভাবও তরুণদের এ পথে টানছে। জরিপে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ ব্যবহারকারী বন্ধুদের প্ররোচনা ও সামাজিক চাপকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ৩৪ শতাংশ বলেছেন, মানসিক চাপের কারণে তাঁরা এসব পণ্যের দিকে ঝুঁকেছেন। ধূমপান ছাড়ার উপায় হিসেবে ব্যবহার এবং ফ্যাশন বা স্ট্যাটাস সিম্বল হিসেবেও এগুলোকে দেখছেন অনেকে।

হার্ট ফাউন্ডেশন জানায়, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এসব পণ্য কিনতে কার্যত কোনো বয়স যাচাইয়ের বাধা নেই। প্রায় ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ ব্যবহারকারী ভ্যাপ বা বিশেষায়িত দোকান থেকে এবং ৩১ শতাংশ বন্ধুদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করেন। মাত্র ২৪ দশমিক ১ শতাংশ ক্রেতা জানিয়েছেন, কেনার সময় তাঁদের বয়স প্রমাণের কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হয়েছিল।
অনলাইন ও দোকানে সহজলভ্য বিজ্ঞাপন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণাও তরুণদের আকৃষ্ট করছে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিকোটিননির্ভরতার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাই তরুণদের এই নতুন তামাকের ফাঁদ থেকে রক্ষা করতে দ্রুত কঠোর আইনি পদক্ষেপের তাগিদ দিয়েছেন গবেষকেরা।

তারা জানান, ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোলের (এফসিটিসি) নির্দেশনা অনুযায়ী ই-সিগারেট, এইচটিপি ও নিকোটিন পাউচের বিক্রয় ও বিপণনে কঠোর নিষেধাজ্ঞা, প্যাকেটে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী, কর বৃদ্ধি এবং পাবলিক প্লেসে এসব পণ্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বয়স যাচাই ছাড়া যাতে এসব পণ্য বিক্রি করা না যায়, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকির আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকেরা।