ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের অভিযানে নারীসহ একাধিক দালাল হাতেনাতে ধরা খেয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢামেক পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান নিজে হাসপাতালে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে অভিযান চালান। হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি আর দালাল চক্রের দৌড়াত্ব বন্ধে এই অভিযান চালানো হয় বলে জানান তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, অভিযানের সময় হুইলচেয়ার নিয়ে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করলে এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন পরিচালক। ওই নারী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নিজস্ব হুইল চেয়ারে টাকার বিনিময়ে রোগীদের আনা নেওয়া করতেন।
ঢামেক পরিচালক ওই নারীকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া টাকার বিনিময়ে হুইল চেয়ারে রোগীদের আনা নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে ওই নারী বিভিন্ন অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য দেন।

রোগী ভর্তির মিথ্যা অজুহাত ও ভুল ওয়ার্ডের তথ্য দেওয়ায় তার আসল পরিচয় উন্মোচিত হয়। হাসপাতালের অনুমতি ছাড়া অবৈধ কার্যক্রমের দায়ে তাকে আনসার সদস্যের জিম্মায় দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে আরও এক দালাল হাতেনাতে ধরা পড়ে। রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে রিলিজ ও অন্যান্য সহায়তার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ সময় ওই দালালকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। ঢামেক পরিচালক ওই ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও লেনদেনের বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।

অভিযানের বিষয়ে ঢামেক পরিচালক বলেন, আজকে দেখলেন যে আমরা একটা অভিযান করলাম। সেখানে একজন দালালকে ধরা হয়েছে যে পাশের ডায়াগনোস্টিক সেন্টার থেকে এখানে এসে ঢুকে আমাদের রোগীদেরকে প্রলুব্ধ করে তার সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছিল। আমরা নিয়মিত এই অভিযানগুলো পরিচালনা করি। আমি করি, আমার অন্যান্য যারা সহকারী পরিচালক, উপপরিচালক আছেন; উনারাও করেন।
তিনি আরও বলেন, এর বাইরে মেডিকেল রিপ্রেজেন্ট স্পেসিফিক ডেট বলা আছে সোমবার এবং বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পরে। কিন্তু তারা দেখা যায় যে এই ডেটটা মানে না। কিন্তু তো আমরা গেলেই তারা চলে যায়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা এই অভিযানটাও নিয়মিত পরিচালনা করি যাতে রোগীদের কষ্ট কম হয়। আউটডোরে রুমগুলোতে তারা যেন ঢুকে রোগীদের ডিস্টার্ব না করতে পারে বা ডাক্তাররা যে রোগী দেখার পরে প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে এই কাজগুলো যেন না করতে পারে। আমাদের এইটা রেগুলার একটা পদক্ষেপ। রোগীদের আরও স্বস্তি দেওয়ার জন্য যাতে ভোগান্তি কম হয় সে কারণে এই পদক্ষেপগুলো আমরা নিয়ে থাকি।