গাজীপুরের সাইদুর রহমান সবুজ এক সময় মসজিদে আযান দিতেন। খুব সুন্দর করে কোরআন তেলাওয়াত করতে পারতেন। কিন্তু চোয়াল ভেঙে যাওয়ার পর এখন তিনি স্পষ্ট করে কথা ই বলতে পারেন না। অনেকে তাঁর কথা ঠিকমতো বুঝতে পারেন না। এখন তাঁকে চিৎকার করে কথা বলতে হয়।
নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে সাইদুর জানান, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা অনেক খারাপ হয়েছে। এখন কথা বলতে তাঁর অনেক কষ্ট হয়। এছাড়া, আক্রান্ত স্থান পুরোপুরি অবশ এবং ব্যথা রয়েছে। চোয়ালের ব্যথায় তিনি ঘুমাতে পারেন না।
সাইদুরের অভিযোগ, আক্কেল দাঁতের ব্যথার চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। একটি দাঁত তুলতে ১২ হাজার টাকা দিয়েছেন। তার ভাষ্য, আক্কেল দাঁত তুলতে গিয়ে তার চোয়াল ভেঙ্গে দিয়েছে ‘প্রতারক ডাক্তার’।

ভুক্তভোগী সাইদুর জানান, আক্কেল দাঁত তুলতে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পর তীব্র ব্যথা শুরু হয়। কয়েক দিন পর হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করালে তাঁর চোয়াল ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় তিনি অভিযুক্ত ‘চিকিৎসকের’ বিরুদ্ধে গাজীপুর আদালতে মামলা করেছেন। মামলাটি এখনো চলমান।
তিনি আরও জানান, মে মাসে আক্কেল দাঁতের ব্যথার জন্য তিনি ওই ‘ভুয়া চিকিৎসকের’ কাছে যান। চিকিৎসক এক্স-রে করে জানান দাঁতটি তুলে ফেলতে হবে। এ সময় তাঁর স্ত্রী চিকিৎসককে জানান, সাইদুলের হার্টের সমস্যা রয়েছে। তখন ওই ভুয়া চিকিৎসক বলেন, হার্টের সমস্যার সঙ্গে দাঁত তোলার কোনো সম্পর্ক নেই এবং দাঁত তুলতে দুই-তিন মিনিট সময় লাগবে। এরপর এক্স-রে করার পর ওই ‘চিকিৎসক’ দাঁত তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেন।

সাইদুরের দাবি, একটি দাঁত তুলতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে এবং এ সময় তাঁকে আটটির বেশি ব্যথানাশক ইনজেকশন দেওয়া হয়। দাঁত তোলার প্রায় এক ঘণ্টা পর প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে তিনি বাসায় ফিরে যান। সারা রাত তিনি ঘুমাতে পারেননি এবং পরদিনও ব্যথার কারণে স্বাভাবিকভাবে থাকতে পারেননি।
তার ভাষ্য, পরদিন চিকিৎসকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তাঁকে গরম পানি দিয়ে কুলি করতে বলা হয়। লবণ-পানি দিয়ে কুলি করলেও ঠিক হয়ে যাবে বলে চিকিৎসক জানান।
সাইদুর বলেন, এসব করার পরও ব্যথা কোনোভাবেই কমছিল না। পরে চিকিৎসকের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করলে তিনি তাঁকে জানান, তাঁর চিকিৎসাবিদ্যায় এই ব্যথা কমানোর কোনো ওষুধ নেই এবং মুখের অবশ ভাব নিজে থেকেই চলে যাবে।

চার দিন পর তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) হাসপাতালে যান। সেখানে এক্স-রে করালে তাঁর চোয়াল ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।
তার দাবি, পরীক্ষায় তাঁর মাড়ি দুই টুকরা হয়ে যাওয়ার বিষয়ও ধরা পড়ে। এছাড়া মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযুক্ত নার্ভগুলোর গুচ্ছ কেটে যাওয়ার বিষয়টি সিটি স্ক্যানের প্রতিবেদনে রয়েছে।
পরবর্তীতে তিনি গাজীপুর আদালতে ওই চিকিৎসকের নামে মামলা করেন। মামলাটি এখনো চলমান বলে জানান সাইদুর। তিনি জানান, অভিযুক্ত পক্ষ থেকে মামলা তুলে নিয়ে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, সাইদুরের ঘটনার সংবাদ প্রচার হওয়ার পর কয়েকজন ডেন্টিস্ট ও চিকিৎসক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম মনি কোনো বিডিএস ডাক্তার কিংবা ডেন্টিস্ট নয়। তিনি ঢাকা ডেন্টাল কলেজের ছাত্রহোস্টেলের স্টোর কিপার ছিলেন।

তবে ডক্টর টিভির পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত আমিরুল ইসলামের চিকিৎসক পরিচয় ও একাডেমিক শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আমার এখান থেকে সে (ভুক্তভোগী) যখন গিয়েছে তখন তার চোয়াল ভাঙার কোনো লক্ষণ হয় নাই। এখন অবশ থাকুক আর যে রকমই থাকুক, যদি চোয়ালটা ভেঙে যায় তাইলে একটা সাইড কিন্তু লুজ হইয়া ঝুলে পরে।
তিনি আরও বলেন, আমার হাতে যতক্ষণ ছিল; আমি সেলাই দিয়েছি, তুলা কামড় দেওয়াইছি; সে তুলা কামড় দিয়েছে। যদি ওই জায়গাটা ভেঙে যেত তাহলে তুলা কামড় দিতে পারত না, গালটা ঝুলে যেত।