এসির কারণে ভয়াবহ বিপদে পড়তে যাচ্ছি আমরা। আজকাল ঘরে ঘরে এসি। গাড়িতে এসি, অফিসে এসি। এসব এসি চালুর সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বের তাপমাত্রা একধাপ বেড়ে যায়। এসব এসি আমাদের ক্ষণিকের জন্য শীতল করলেও গোটা বিশ্ব ধীরে ধীরে নরকে পরিণত হচ্ছে।
এসির বাতাসে একটানা শুয়ে-বসে থাকা মানুষগুলোর ভিতরে জন্ম নিচ্ছে নানা রোগ। এসি শুধু ঘরের বাতাস ঠাণ্ডা করে না, আস্তে আস্তে শুষে নেয় ওই স্থানের সব আর্দ্রতা। বেশি সময় এসিতে থাকলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, চোখের পানি শুকিয়ে দেখা দেয় ‘ড্রাই আই সিন্ড্রোম’-এর মতো রোগ।

নিয়মিত এসির ফিল্টার পরিষ্কার না করলে জমে থাকা ধুলোবালি আর ছত্রাক থেকে জন্ম নেয় হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টের মতো রোগ। তৃষ্ণা না পাওয়ায় পানির ঘাটতি দেখা দিয়ে অসুস্থতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়। শরীর তো আছেই, তবে আসল তাণ্ডব তো চলছে পরিবেশের ওপর। এসি ও ফ্রিজ থেকে বের হওয়া অতি ক্ষতিকারক HFC (এইচএফসি) ও HCFC (এইচসিএফসি) গ্যাস বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য অনেকাংশে দায়ী।
বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪ বিলিয়ন এসি ও ফ্রিজ আছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০৫০ সাল নাগাদ এর সংখ্যা দাঁড়াবে সাড়ে ৯ বিলিয়নে। গরিব ও উন্নয়নশীল দেশ যত ধনী হচ্ছে, তত বাড়ছে এসি আর ফ্রিজের সংখ্যা। এর ফলে বিশ্ব দিনে দিনে উষ্ণ হচ্ছে।
এই বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে দক্ষিণ মেরুর বরফ ইতিমধ্যে গলতে শুরু করেছে। এভাবে চললে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের কিছু দেশ পানির নিচে চলে যেতে পারে।

অনেকের জন্য এসি চালানো বন্ধ করা হয়তো সম্ভব নয়। কিন্তু এসি চালানোর সময় সঠিক নিয়ম ব্যবহার করলে পরিবেশ ও নিজের শরীর দুটোই বাঁচানো সম্ভব। এসি সবসময় ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রিতে রেখে ঘরের সিলিং ফ্যান চালু রাখলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় এবং পরিবেশের ওপর চাপ কমে। প্রয়োজন না হলে এসি বন্ধ রাখাই ভালো।
প্রতিটি মানুষের ছোট ছোট সতর্কতা ও ঐকান্তিক চেষ্টায় বাঁচতে পারে পরিবেশ, সুরক্ষিত হতে পারে নিজের শরীর ও জীবন।