বর্ষা মৌসুম প্রায় শেষ হলেও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এখনো কমছে না। উল্টো প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা। চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী অক্টোবরেও পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।
গত মে মাসে যত সংক্রমণ ছিল, জুনে তার তিন গুণ সংক্রমণ হয়েছে। আবার জুলাইয়ের সংক্রমণ জুন মাসের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। এ সময় মৃত্যুও বেড়েছে তিন গুণের কাছাকাছি। গত আগস্ট মাসে তার আগের মাসের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি সংক্রমণ হয়েছে, বেড়েছে মৃত্যুও।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত (১ জানুয়ারি থেকে ৪ সেপ্টেম্বর) ৪০ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে গত তিন বছরের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ।
এর আগে, গত ৩ সেপ্টেম্বরের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, আগের ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ২৫২ জন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১০১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার সিটি এলাকার বাইরেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
এরই মধ্যে এবার ডেঙ্গু ভাইরাসের ডেন–৩ ধরনটি প্রধান হয়ে উঠেছে। তবে ডেন–২ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ছড়াচ্ছে। কোথাও ডেন–৩, আবার কোনো কোনো এলাকা ও গ্রামাঞ্চলে ডেন–২ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এই পরিস্থিতিকে বলছে ‘মিশ্র চিত্র’।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন মনে করেন, একই সময়ে দুই ধরনের সেরোটাইপের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি এবারের দ্রুত সংক্রমণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
জনস্বাস্থ্যবিদ ও কীটতত্ত্ববিদেরা বলছেন, চলতি মাসে ডেঙ্গু অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠতে পারে। বছর শেষে আবারও ২০২৩ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর প্রায় প্রতিটি এলাকায় রয়েছে এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ। তাই মশা নিধনের পাশাপাশি বেশি গুরুত্ব দিতে হবে লার্ভা ধ্বংসে। শুধু সিটি কর্পোরেশনের অভিযানের ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদেরও নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।

এ প্রসঙ্গে কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, ঢাকা শহরের প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই এখন এডিস মশার ঘনত্ব ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য উপযোগী মাত্রায় আছে। আর এডিস মশার ঘনত্ব, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা, থেমে থেমে বৃষ্টি, আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রা—এই কয়েকটি মিলিয়ে আমরা ইনসেক্ট রিয়ারিং অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল স্টেশন থেকে যে ফোরকাস্টিং মডেল তৈরি করি, সেখানে স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে যে, সেপ্টেম্বরের পরিস্থিতি বেশ খারাপ হবে। এমনকি অক্টোবরেও সেই খারাপ পরিস্থিতি থাকবে।