জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (এনআইএমএইচ) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান এবং উপপরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলীসহ ৫৭ চিকিৎসককে সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাঁদের মধ্যে ৪৯ জনকে বিলম্বে উপস্থিতি এবং আটজনকে অনুপস্থিতির কারণে সতর্ক করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের পরিদর্শনকালে বিলম্বে উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ঘটনায় এই সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে।
গত ১৯ থেকে ২৫ আগস্ট স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের শৃঙ্খলা অনুবিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সাদিয়া আফরিন স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, বিলম্বে উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির কারণে প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হওয়ায় তা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল। প্রথমবারের অপরাধ বিবেচনায় সতর্ক করা হলেও ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি হলে বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, চলতি বছরের ৮ মার্চ সকাল ৯টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হঠাৎ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তাঁরা প্রায় দেড় ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন। এ সময় কয়েকজন চিকিৎসক বিলম্বে উপস্থিত হন এবং আটজন অনুপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে রোগীদের বিছানায় ছারপোকা, চিকিৎসকদের সময়মতো উপস্থিত না হওয়া ও খাবারের মানসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অনুপস্থিতির কারণে সতর্ক করা আট চিকিৎসক হলেন—ডা. ফাতেমা তুজ জোহরা জ্যোতি, ডা. সানজিদা আক্তার, ডা. আবদুল কাদের, ডা. আসাদুল বারী চৌধুরী অমি, ডা. রাহাত ফাহমিদা আলম, ডা. সৌরভ হোসেন, ডা. তানজিলা রহমান যুথী ও ডা. সুতপা বনিক।
বিলম্বে উপস্থিতির কারণে সতর্কবার্তা পাওয়া চিকিৎসকদের মধ্যে রয়েছেন- সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. ফারজানা ওমর তানজু, ডা. সামিয়া তাসমীন আনিকা, সহকারী অধ্যাপক ডা. নাদিয়া আফরোজ, মেডিকেল অফিসার ডা. নিশাত আনজুম, ডা. সিফাত-ই-মাহবুব, এমডি রেসিডেন্ট ডা. সাফায়েত হোসাইন মীর, ডা. ওয়াহিদা আক্তার, ডা. সিফাত বিনতে আলমগীর, ডা. সুমাইয়া বিনতে জলিল, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডা. মো. সোলায়মান হোসেন, ডা. জেবুন নাহার, ডা. মোহাম্মদ জোবায়ের মিয়া, ডা. মোহাম্মদ মুনতাসীর মারুফ, ডা. মোহাম্মদ শাহাদত হোসাইন, ডা. সাদিয়া আফরিন, ডা. গোলাম মোস্তফা, ডা. জিনাত তে লায়লা, ডা. মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

সতর্কবার্তা পাওয়া চিকিৎসকদের মধ্যে আরও রয়েছেন- ডা. তানিয়া আলম, ডা. তাহমিনা ইসলাম, ডা. মাহফুজা ইয়াসমিন, ডা. শারমিন সুলতানা, ডা. মো. আবদুল্লাহ, ডা. ফারজনা আক্তার, ডা. শাফিয়া খানম, ডা. মোহসেনা রহমান, ডা. তানজিয়া শারমিন, ডা. মো. তৈয়বুর রহমান, ডা. মোসা. রাবেয়া, ডা. মোহতাশাম হাসান, ডা. শুব্ধদেব সরকার, ডা. মো. আসিফ-আল-নাঈম, ডা. মুহাম্মদ শিবলি সাদিক, ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ সাজ্জাদ জালাল, ডা. মো. জামাল হোসেন, ডা. রেবেকা ইয়াসমিন, ডা. ফারহানা রহমান, ডা. কনক চন্দ্র রায়, ডা. জয়দীপ গোস্বামী, ডা. সাদিয়া সুলতানা, ডা. আফরোজা আক্তার, ডা. সাকিলা রহমান, ডা. চ্যোচ্যো ন্যান্সি, ডা. আফরোজা রহমান লোপা ও ডা. রহিমা ফেরদৌস প্রমুখ।