বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে নিহতের স্বজনদের বিরুদ্ধে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছয় চিকিৎসকসহ নিহতের কয়েকজন স্বজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

পুলিশ জানিয়েছে, বহিরাগত ছয়জনকে হাসপাতালের ভেতরে আটক করা হয়েছে। ওই ছয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। আর বাকি চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকবেন।
পুলিশের হেফাজতে থাকা ওই ছয়জনের মধ্যে চারজন মহানগর ছাত্রদলের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির নেতা বলে জানা গেছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে বহিরাগতদের নিয়ে এসে রোগীর স্বজনরা মিড-লেভেল ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান।

চিকিৎসকরা জানান, একজন বৃদ্ধ রোগীকে মুমূর্ষু অবস্থায় সন্ধ্যায় ওই ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ওয়ার্ডের মিড-লেভেল ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোগীটিকে সেবা দিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করলেও রাত ১০টার পর ওই রোগী মারা যান। এরপর ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে রোগীর কয়েকজন স্বজন ১০-১৫ জন বহিরাগত নিয়ে এসে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান। হামলার ঘটনায় তিনজনের হাতের হাড় ভাঙাসহ ছয় ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে নিহতের স্বজনরা জানান, একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ভুল ইনজেকশন প্রয়োগ করায় আব্দুল মালেক মারা যান। এ বিষয়টি নিয়ে তারা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়।

চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মনজুর-এ-মোর্শেদ জানান, বহিরাগতদের হামলায় ইন্টার্ন ও মিড লেভেল মিলিয়ে ছয়জন চিকিৎসক আহত হয়েছেন।
নিরাপত্তার বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসকদের সেবা দিতে হলে সবার আগে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। হাসপাতালে অবকাঠামো ও জনবলের তুলনায় রোগীর চাপ অনেক বেশি। তার ওপর একজন রোগীর সঙ্গে একাধিক স্বজন থাকায় চিকিৎসাসেবার পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসকদের জন্য ধারাবাহিকভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার।

এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী জানান, হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা শুনে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তারা হাসপাতালে যান। এ সময় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে বহিরাগতরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত দুপক্ষের কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।