রোগীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসকদের মানবিক ও সহানুভূতিশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি বলেন, রোগীর সঙ্গে চিকিৎসকের আচরণ, মনোযোগ ও আন্তরিকতা চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হারানো আস্থা পুনরুদ্ধারে এ জায়গায় পরিবর্তন আনা জরুরি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্টস সোসাইটির জাতীয় সাধারণ সভায় (এনজিএ) তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল স্বাস্থ্য বিষয়ক দেশের অন্যতম শীর্ষ গণমাধ্যম ডক্টর টিভি (doctortv.net)।
‘ওয়ান প্লেজ, ওয়ান বন্ড: ডক্টরস রাইটস অ্যাবভ অল’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার খানেক মেডিকেল শিক্ষার্থী, তরুণ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পেশাজীবী অংশ নেন।

ডা. প্রভাত চন্দ্র বলেন, অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা রোগীকে প্রয়োজনীয় সময় দেন না। আবার রোগীর সঙ্গে প্রত্যাশিত আচরণও করা হয় না। এই অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। ধৈর্য ধরে রোগীর কথা শোনা, আন্তরিকতা দেখানো এবং চিকিৎসার সময় যথাযথ মনোযোগ দেওয়ার মাধ্যমে রোগীর অসন্তোষ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকের কাছে একজন রোগী শুধু চিকিৎসা নিতে আসেন না, বরং আশা ও বিশ্বাস নিয়েও আসেন। ভালো চিকিৎসা ও সঠিক ব্যবস্থাপত্রের পাশাপাশি রোগী চিকিৎসকের কাছ থেকে নিরাপত্তা ও ভরসার অনুভূতি প্রত্যাশা করেন। তাই চিকিৎসকদের জন্য মানুষের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার করা এখন একটি বড় দায়িত্ব।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, স্বাস্থ্য খাতে একটি কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা বর্তমানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর মাধ্যমে এই ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান চিকিৎসকদের গবেষণায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে একজন চিকিৎসক নতুন জ্ঞান ও উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন রোগ নিয়ে কাজ হলেও অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে বিদেশি ও আঞ্চলিক তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়।

দেশের রোগের প্রকোপ, বিস্তার ও চিকিৎসা বিষয়ে নিজস্ব তথ্যভাণ্ডার তৈরিতে চিকিৎসকদের গবেষণায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও হেড অব অফিস ডা. সুসান ভাইজে বলেন, তরুণ চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পেশাগত বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি ক্লিনিক্যাল দক্ষতা, জনস্বাস্থ্য, গবেষণা ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনার বিষয়েও এ ধরনের আয়োজন ভূমিকা রাখে। এতে তরুণ স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মধ্যে নেতৃত্ব ও পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।