গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কলেজ শিক্ষার্থীসহ ৩ দিনে ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) কোনাবাড়ী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার মিতু (২০) নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এর এক দিন আগে জরুন দক্ষিণ কাশিমপুর এলাকায় ডেঙ্গুতে প্রাণ হারায় সাত বছরের শিশু শিক্ষার্থী সাদিয়া। পরপর দুই মৃত্যুর ঘটনায় কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সুমাইয়া আক্তার মিতু বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে তিনি কোনাবাড়ী কুদ্দুস নগর এলাকায় বসবাস করতেন। গত বছর কোনাবাড়ী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন তিনি। অনার্সে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছিল তার।

পরিবারের সদস্যরা জানান, চলতি মাসের ১৮ আগস্ট সুমাইয়ার শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। এরপর বাড়িতেই তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
মিতুর চাচা মাইনুল ইসলাম বলেন, ভাতিজিকে নিয়ে সবার অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল। তার মৃত্যুতে পরিবারের সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। সুমাইয়ার মৃত্যুর দুই দিন আগে, গত ২৩ আগস্ট গাজীপুর মহানগরের জরুন দক্ষিণ কাশিমপুর এলাকায় ডেঙ্গুতে মারা যায় সাত বছরের শিশু সাদিয়া। সাদিয়া পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানার তেলিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে সে জরুন দক্ষিণ কাশিমপুর এলাকায় ফজলু মোল্লার বাসায় ভাড়া থাকত। স্থানীয় একটি নূরানি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত শিশুটি। এদিকে কোনাবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় কয়েক সপ্তাহে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগও বাড়ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখা যাচ্ছে। রোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় কয়েকটি হাসপাতালে আসন সংকটের কারণে বারান্দায় রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ফগার মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম কিছুটা চালানো হলেও এসব উদ্যোগের মধ্যেও আক্রান্তের সংখ্যা কমছে না বলে স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা রয়েছে।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বাড়ির আশপাশে তিন দিনের বেশি সময় পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। পরবর্তী সময়ে ওই মশা কাউকে কামড়ালে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়।
তিনি আরো বলেন, নিয়মিত ফগিংসহ মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।