কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক চরম সংকট চলছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ১৭ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ছয়জন। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় হাওর এলাকার জনগণের।
চিকিৎসকের পাশাপাশি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরও অনেক সংকট রয়েছে। স্থানীয় দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের বড় একটি অংশ চিকিৎসার জন্য এ হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় জটিল রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও সীমাবদ্ধতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার হাসপাতালে বিভিন্ন সময়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু রোগী ভর্তি থাকে। নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাওর এলাকার দরিদ্র মানুষের অনেকের পক্ষেই দূরের জেলা শহর বা বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব নয়। ফলে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই তাদের অন্যতম প্রধান ভরসা।
এসব বিষয়ে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সজীব ঘোষ জানান, হাসপাতালটিতে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, তিনটা কনসালট্যান্টের একজনও নাই।

তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক সংকট অনেক জায়গাতেই রয়েছে। তবে নিকলীর পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি। ১৭ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে মাত্র ছয়জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন।
তিনি আরও বলেন, এটা তো হাওর এলাকা। আমরা চেষ্টা করছি, যতটুকু সীমিত জনবল আছে, সেটা দিয়েই যেন সার্ভিসটা বজায় রাখা যায়। আমাদের পর্যাপ্ত সংখ্যক তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর সংকট আছে। একই সঙ্গে চিকিৎসক সংকট তো আছেই।
দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা চিকিৎসকের পদগুলো পূরণ করা গেলে হাওর এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে বলে জানান ডা. সজীব ঘোষ।