মাদারীপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সরকারি হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে কাওসার বেপারী (২৫) নামের এক যুবককে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফারুক ফকিরকে (৫৫) আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে হাসপাতালের ষষ্ঠ তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহত কাওসার বেপারী সদর উপজেলার সৈয়দারবালী এলাকার শাহালম বেপারীর ছেলে এবং আটক ফারুক ফকির একই উপজেলার টুবিয়া এলাকার নুরুল হক ফকিরের ছেলে। দুই মাস আগে পূর্ব শত্রুতার জেরে সদর উপজেলার সৈয়দারবালী এলাকার মান্নান মোল্লার ছেলে শাহীন মোল্লাকে কুপিয়ে জখম করেছিল ফারুক ফকির ও তার লোকজন। ওই ঘটনার মামলা বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে।

ওই ঘটনার রেস ধরে শনিবার দুপুরে শাহীনের শ্যালক কাওসার বেপারী হাসপাতালে ফারুককে একা পেয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এ সময় দুপক্ষের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওয়ার্ডের থাইগ্লাস ভেঙে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফারুক হাসপাতালের ষষ্ঠ তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। অভিযোগ রয়েছে, পরে ভেঙে যাওয়া থাইগ্লাসের ধারালো টুকরা দিয়ে কাওসারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন ফারুক। এ সময় কাওসারের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত ফারুককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় কাওসারকে প্রথমে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় প্রেরণ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, হাসপাতালে মারামারির ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।