দেশে প্রজনন হার বৃদ্ধি এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ব্যবহার বাড়াতে এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী বছরব্যাপী জাতীয় জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।
‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’ - এই স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে এই কর্মসূচি চলবে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৃহৎ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ১ ডিসেম্বর থেকে পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিয়ে মাঠপর্যায়ে বড় ধরনের সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। তিনি বলেন, "আমরা একদম প্রাথমিক স্তর (প্রাইমারি লেভেল) থেকে কাজ শুরু করব। জারি-সারি গান, গ্রামীণ খেলাধুলা ও বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমের সাহায্যে সচেতনতার বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে এই উদ্যোগ শুধু প্রচারণাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।"
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (মিকস) ২০২৫’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট প্রজনন হার বেড়ে ২.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি বাল্যবিবাহের হার ২৪ শতাংশ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের হার ৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের প্রায় ৬১ শতাংশ ক্ষেত্রেই অনিরাপদ গর্ভপাতের ঘটনা ঘটছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা ও মা-শিশুস্বাস্থ্যসেবায় গতি আনতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ২২ দফার একটি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় নারী সংসদ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতা এবং ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে সম্পৃক্ত করা হবে। এছাড়া হাট-বাজারে বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প, বস্তি ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সেবা, ২৩ হাজার ৫০০টি ইউনিটে ‘ওয়েলবিং ক্লাব’ গঠন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ‘পরিবার সংলাপ’, নবদম্পতিদের কাউন্সেলিং এবং পুরুষদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচির লক্ষ্য অনুযায়ী, বছরজুড়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম, র্যালি ও সমন্বয় সভার মাধ্যমে প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে সরাসরি সম্পৃক্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাঠকর্মীরা সাধারণত কনডম, খাবার বড়ি, আইইউডি, ইনজেকশন ও ইমপ্ল্যান্টসহ প্রায় ২৮ ধরনের সামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করে থাকেন। তবে গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে এসব সামগ্রী কেনাকাটা বন্ধ থাকায় অনেক উপজেলা ও মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত মজুত সংকট দেখা দিয়েছে। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সেই সংকট কাটিয়ে সেবা সচল করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।
সূত্র: বাসস