আসন্ন ৫১তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) পরীক্ষার আবেদনের সময় শেষ হয়ে গেছে। বিশেষ এই বিসিএসে পাঁচ হাজার পদের বিপরীতে ৪১ হাজারের বেশি প্রার্থী আবেদন করেছেন।
গত রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ ছিল। এর আগে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৫১ তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান জানান, এই বিসিএসে মোট কত প্রার্থী চূড়ান্তভাবে আবেদন করেছেন, তা জানার জন্য আগামীকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, আবেদন করার সময় ২৫ অক্টোবর শেষ হলেও প্রার্থীদের ফি জমা দেওয়ার জন্য ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত সময় থাকছে। নিয়ম অনুযায়ী ফি জমা না দিলে আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয় না। শেষ পর্যন্ত যত প্রার্থী নির্ধারিত ফি জমা দেবেন, প্রয়োজনীয় যাচাই–বাছাই শেষে শুধু সেসব আবেদনকারী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই ৫১তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে মোট পাঁচ হাজার চিকিৎসক ক্যাডার পদে নিয়োগ পাবেন। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ জনকে সহকারী সার্জন পদে পদায়ন করা হবে। বাকি ৩০০ জন ডেন্টাল সার্জন পদে নিয়োগ পাবেন।
বিশেষ এই বিসিএসে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা আগের মতোই ৩২ বছর বহাল রয়েছে।
চলতি বছরের ৫ এপ্রিল বিসিএসসহ সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৩২ বছর নির্ধারণ করে জাতীয় সংসসে বিল পাস হয়। এর আগে, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার ‘সরকারি চাকরি আইন’ সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করেছিল।

কিন্তু চিকিৎসকদের দাবি ও আন্দোলন স্বত্তেও বিসিএসে তাদের আবেদনের বয়সসীমা দুই বছর না বাড়িয়ে আগের মতো ৩২ বছর ই বহাল রেখে ৫১তম বিসিএসের (স্বাস্থ্য) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পিএসসি।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় মেডিকেল শিক্ষা (এমবিবিএস ও বিডিএস) ছাড়া সাধারণ ও প্রকৌশলসহ প্রায় সব ধরনের স্নাতক (অনার্স) ডিগ্রি সম্পন্ন করতে চার বছর সময় লাগে। অন্যদিকে, মেডিকেলে এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করতে ইন্টার্নশিপসহ ন্যূনতম ছয় বছর সময় লাগে। অর্থাৎ অন্যদের তুলনায় মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ব্যাচেলর (স্নাতক) ডিগ্রি সম্পন্ন করতে দুই বছর সময় বেশি লাগে।

সে হিসেবে, পূর্বে যখন বিসিএসসহ সরকারি চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর ছিল, তখন চিকিৎসকদের জন্য বিসিএসে (স্বাস্থ্য) আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল ৩২ বছর।