দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এবং স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক মান উন্নয়নে আমূল পরিবর্তনের তাগিদ দিয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। ডেঙ্গু প্রতিরোধ, টিকার মজুত নিশ্চিতকরণ এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগের জন্য জোর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে স্যাটেলাইট ক্লিনিক ও স্কুল স্বাস্থ্য শিক্ষা জোরদার করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি এস. এম. রফিকুল ইসলাম।

বৈঠকে জানানো হয়, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার পরিধি বৃদ্ধি এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ (ICU), ডায়ালাইসিস সেন্টারসহ ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। চিকিৎসাসেবা আধুনিক করতে রোগীদের ডিজিটাল ‘হেলথ কার্ড’ প্রদানের কার্যক্রমও চালু রয়েছে বলে কমিটিকে অবহিত করা হয়।
তৃণমূলের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিবার পরিকল্পনা, গর্ভবতী মায়েদের প্রসবকালীন সেবা নিশ্চিত করা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশুদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য বিশেষায়িত ‘শিশু স্বর্গ’ নামক স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখার বিষয়েও বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হয়।
হাসপাতালগুলোতে রোগীদের নিরাপদ পরিবেশ ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইতোমধ্যে সশস্ত্র আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসা বর্জ্য আধুনিক উপায়ে ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা হাসপাতালগুলোতে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও সেবামুখী পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ এবং ফ্যাসিস্টদের কার্যক্রমের প্রতি কড়া নজর ও সজাগ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ত্রয়োদশ সংসদের এই স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক হওয়ায় শুরুতে সভাপতি, সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিচিতি পর্বে অংশ নেন। এরপর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের কার্যাবলি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য ও সরকারের নীতিনির্ধারক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।