রাজধানীর মিরপুরে বর্বরোচিত হামলার শিকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ধ্বংসস্তূপের মাঝেই সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা চালু হয়েছে। তবে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় সেবা নিতে আসা শিশু, অভিভাবক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের একটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত কক্ষে শিশুদের টিকাদান শুরু হয়। এর আগে শনি ও রোববার কেন্দ্রের বাইরে সড়কের পাশে ত্রিপল টানিয়ে এই কার্যক্রম চালানো হয়েছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, ধূলিধূসরিত ভাঙা কক্ষটিতে চেয়ার-টেবিল পেতে স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা দিচ্ছেন। তবে বিদ্যুৎ না থাকায় ভ্যাপসা গরমে কোলের শিশুরা কষ্ট পাচ্ছে এবং অনবরত ধুলাবালি উড়ছে।
সাড়ে চার মাস বয়সী নাতিকে নিয়ে আসা লাবনী বেগম বলেন, "গরমে বাচ্চা কষ্ট পাচ্ছে, তবে এই প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকা দিতে পেরেছি। আমরা হামলার বিচার চাই।"
রাড্ডা সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার জানান, আপাতত একটি কক্ষ পরিষ্কার করে সেবা সচল করা হলেও পানি, বিদ্যুৎ বা শৌচাগার না থাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ এখনো ফেরেনি। তবে সরকারিভাবে দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এক্সকাভেটর দিয়ে রাড্ডা সেন্টারের ৪টি ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে চিকিৎসাসামগ্রী লুট করে দুর্বৃত্তরা। পরে সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি’র অবৈধ সাইনবোর্ড টাঙানো হলেও আজ সকালে তা উচ্ছেদ করে রাড্ডা সেন্টারের নিজস্ব সাইনবোর্ড পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। এই ঘটনায় শাহ আলী থানায় দায়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১৯৭৪ সাল থেকে মিরপুরের নিম্ন আয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় ভরসার প্রতীক এই প্রতিষ্ঠানটি এখন ভাঙা কক্ষেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।