ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা মোস্তাকিম (৩৮) নামে আরেক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে, একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আসাদুল হক (৩৫) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের চান্দেরহাট বিওপি এলাকার সীমান্ত পিলার ৩৩৩/এমপির কাছাকাছি (ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ বসুদেবপুর সীমান্ত) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শ্রী উদা চন্দ্র (৩৫) নামে আরেক বাংলাদেশি যুবক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বিএসএফের হাতে আটক রয়েছেন।

নিহত আসাদুল হক পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে এবং মোস্তাকিম উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে। আর বিএসএফের হাতে আটক শ্রী উদা চন্দ্র উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের মনশা চন্দ্র রায়ের ছেলে।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জের বৈরচুনা সীমান্তের ৪২ বিজিবির চান্দেরহাট বিওপির বিপরীতে ভারতের বিএসএফের ৬৩/চকশিবানন্দ ও ১২১ ব্যাটালিয়নের বসুদেবপুর ক্যাম্প দায়িত্ব পালন করছে। শুক্রবার রাতে ও শনিবার ভোরে একদল বাংলাদেশি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে বিএসএফ জওয়ানরা তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে।

এতে আসাদুল হক, মোস্তাকিম ও শ্রী উদা গুরুতর আহত হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে শনিবার সকালে প্রথমে আসাদুল হকের মৃত্যু হয়। পরে রাতে একই হাসপাতালে মোস্তাকিমেরও মৃত্যু হয়। তাদের লাশ বর্তমানে ভারতের হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

দিনাজপুর- ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, সীমান্তে হতাহতের খবরটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিএসএফের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগের পাশাপাশি লাশ দ্রুত দেশে ফেরত আনা এবং ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে বিজিবি-বিএসএফ ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।