পানামার দক্ষিণ উপকূলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে বাড়িঘর ও ভবনের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পে দেশটির ছয়টি প্রদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া, দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
ভূমিকম্পের পর অন্তত ১২ থেকে ১৩ বার আফটারশক অনুভূত হয়েছে। আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় ও খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন বাসিন্দারা। ভূমিকম্পের পর সেটিকে বড় ধরনের বিপর্যয় বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে (বাংলাদেশ সময় শনিবার দিবাগত রাত ১টা) পানামার দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৭ দশমিক ৮ মাইল গভীরে ছিল এর উৎপত্তিস্থল। এতে হতাহতের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

পানামার জাতীয় জরুরি পরিষেবা সংস্থা ন্যাশনাল সিভিল প্রোটেকশন সিস্টেমের কর্মকর্তারা জানান, কম্পণের স্থায়িত্ব ছিল ১ মিনিটের কাছাকাছি। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল এপিসেন্টার ছিল রাজধানী পানামা সিটি থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে হেরেরা প্রদেশের ছোট শহর পিতালেজো আরির্বায়, ভূপৃষ্ঠ থেমে মাত্র ১২ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরে।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নাতুরগির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কারণে ছয়টি প্রদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র টোকুমেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়। রাজধানী পানামা সিটিতে সড়কে যানজট তৈরি হয়, বন্ধ রাখা হয় মেট্রো রেল পরিষেবাও। নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় বিভিন্ন অফিস থেকে কর্মীদের আগেভাগে ছুটি দেওয়া হয়। দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ক্লাস স্থগিত করা হয়।

ইউএসজিএসের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে পানামার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ থেকে ১০ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। রাজধানীর বিভিন্ন ভবন থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে পানামা সিটিতে অনেকে রাস্তায় ও পার্কে অবস্থান করেন।
পানামার ভূবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক নেস্টর লুক জানান, আজুয়েরো-সোনা ফল্ট সিস্টেমে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা চাপ থেকে ভূমিকম্পটির সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীতে প্রায় ৪০ সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভূত হয়। তবে অন্য এলাকায় তা আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকতে পারে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের কাছে হেরেরা প্রদেশের লা পিতালোজা এলাকার কাছাকাছি ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। প্রতিবেশী কোস্টারিকার রাজধানী সান হোসেতেও কম্পন অনুভূত হয়। রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিওতে পেনোনোমে শহরের একটি গির্জা ও আশপাশের কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। হেরেরা প্রদেশের রাজধানী চিত্রে এবং উপকূলীয় লস সান্তোস প্রদেশ থেকেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো বলেন, আমরা একটি বড় ধরনের দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছি। আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে চলার আহ্বানও জানান তিনি।
তিনি জানান, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি রাস্তা ধসে পড়ায় সড়ক যেগাাযোগ নেটওয়ার্কের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সব বিভাগকে সক্রিয় করা হয়েছে। আগামী সোমবার দেশজুড়ে ভূমিকম্প মোকাবিলায় জরুরি স্থানান্তর মহড়া হওয়ার কথা রয়েছে।