ছুটির দিনের সন্ধ্যা এলেই অনেকের মন চায় সপ্তাহের প্রথম বিয়ারটি পান করতে। আবার কেউ দুপুরের খাবারের পর চিনিযুক্ত কোমল পানীয়, রাতের খাবারের সঙ্গে মিষ্টি পানীয় কিংবা দিনের মধ্যে আরও এক বোতল কোমল পানীয় পান করেন। প্রতিদিনের এসব অভ্যাসকে সামান্য মনে হলেও অতিরিক্ত অ্যালকোহল ও চিনি লিভারের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
কীভাবে লিভারের ক্ষতি হয়?
লিভার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এটি ক্ষতিকর পদার্থ প্রক্রিয়াজাত ও অপসারণে সাহায্য করার পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও হরমোন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু অতিরিক্ত অ্যালকোহল, বাড়তি চিনি, অতিরিক্ত ক্যালরি, সম্পৃক্ত চর্বি, স্থূলতা, ইনসুলিন প্রতিরোধ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধি, বংশগত কারণ ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়ায়।
চিকিৎসকদের মতে, শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ, পরিশোধিত চিনি ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান এবং শরীরচর্চার অভাব একসঙ্গে থাকলে লিভারে চর্বি জমতে শুরু করে। এ অবস্থাকে ফ্যাটি লিভার রোগ বলা হয়।
ফ্যাটি লিভার কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
লিভারে অতিরিক্ত চর্বি দীর্ঘদিন জমে থাকলে প্রদাহ ও কোষের ক্ষতি হতে পারে। এর ফলে ফাইব্রোসিস বা লিভারে ক্ষত তৈরি হতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে এই ক্ষত বাড়তে থাকলে সিরোসিস হতে পারে। তখন স্বাভাবিক লিভার টিস্যু ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যায়। গুরুতর অবস্থায় লিভার ক্যান্সার, লিভার বিকল হওয়া কিংবা লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞের মতে, ফ্যাটি লিভার দীর্ঘদিন কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই লিভারে চর্বি জমা মানেই সিরোসিস নয়, তবে প্রদাহ ও কোষের ক্ষতি শুরু হলে তা ধীরে ধীরে গুরুতর পর্যায়ে যেতে পারে।
যেভাবে লিভার সুস্থ রাখবেন
লিভার সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি আঁশযুক্ত খাবার ও পূর্ণাঙ্গ খাবার বেশি খাওয়া, অতিরিক্ত চিনি ও সম্পৃক্ত চর্বি কমানো এবং অ্যালকোহল সীমিত করা জরুরি। ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ঝুঁকি থাকলে নিয়মিত লিভার পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে ফ্যাটি লিভার অনেক ক্ষেত্রে উন্নত হতে পারে এবং তা ফাইব্রোসিস বা সিরোসিসে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।