দেশে আধুনিক প্রসূতি সেবা নিশ্চিত করা, মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনা এবং প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রত্যয় নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি) এর ৩৪তম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন।
আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দিনব্যাপী এই বৈজ্ঞানিক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে দেশ ও বিদেশের স্ত্রীরোগ এবং প্রসূতি বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবহেলিত নারীদের কাছে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে নানামুখী দিকনির্দেশনা ও আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন।

ওজিএসবির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে দেশের চিকিৎসকদের আরও সম্পৃক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জ্ঞান, গবেষণা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে এ ধরনের বৈজ্ঞানিক সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ওজিএসবির সভাপতি আরো বলেন, ‘আমাদের প্রধান সমস্যাগুলোর একটি হলো মানুষের মধ্যে এখনও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসচেতনতার অভাব। বর্তমানে প্রায় ৩৫ শতাংশ প্রসব বাড়িতে হয়। অথচ বাড়িতে প্রসবের ক্ষেত্রে কোনো দুর্ঘটনা বা জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত পরিবহনব্যবস্থা থাকে না। অনেক পরিবারের আর্থিক সক্ষমতাও সীমিত। তাই প্রথমেই প্রয়োজন নারীদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সচেতন করা। এই সচেতনতা যত বাড়ানো যাবে, তত বেশি মানুষ নিরাপদ প্রসবের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী হবে।

তিনি আরো বওেলন, ’স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে প্রসব নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জেলা হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত জনবল, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, রক্তের ব্যবস্থা এবং প্যাথলজি সুবিধা নিশ্চিত করাও জরুরি’
অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম বলেন, ‘আমাদের তরুণ নারী গাইনোকোলজিস্টরাও অত্যন্ত চমৎকার উপস্থাপনা করেছেন। এই ধরনের বৈজ্ঞানিক সেমিনারে তাঁদের বক্তব্য উপস্থাপনের ধরন ও দক্ষতা সত্যিই প্রশংসনীয়।’
বৈজ্ঞানিক সেশনগুলোতে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং প্রসবকালীন জটিলতা এড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা সিজারিয়ান সেকশনের হার যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং স্বাভাবিক প্রসবের ক্ষেত্রে মিডওয়াইফারি সেবাকে আরও দক্ষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।