মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে আহত হয়ে ২৪ জনের বেশি বাংলাদেশি সৌদি আরবের রিয়াদে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন। এ সংঘাতে এ পর্যন্ত দুজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
গতকাল রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পথপরিক্রমা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।

ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিরীহ বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছেন, ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে পরিবার। পরিস্থিতির দ্রুত অবসান ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে কি না- জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সরকার কাজ করছে। সম্ভাব্য সরবরাহঝুঁকি কমাতে বিকল্প উৎসও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার কোনো ইঙ্গিত সরকার পায়নি। যুদ্ধের কারণে সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলে বিশ্বের অন্যান্য দেশও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংঘাতের প্রভাব প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহেও পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি কর্মসংস্থান হারিয়ে দেশে ফিরেছেন। আবার অনেকে কর্মহীন অবস্থায় ওই অঞ্চলে রয়েছেন। শুধু সৌদি আরবেই ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি বসবাস করেন। ফলে চলমান পরিস্থিতি বিদেশে কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। প্রচলিত শ্রমবাজারের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং দক্ষ ও বৈধ অভিবাসনে গুরুত্ব দিচ্ছে।

এদিকে সৌদি আরবে হামলার কারণে বাংলাদেশ ও রিয়াদের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া ও রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। এতে ৩ হাজার ৪৩১ জন যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে।