কারাবন্দী নারীদের সাথে থাকা শিশু সন্তানদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। এসব শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শিগগির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স এবং ফার্মাসিস্টটের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
কারাগারে থাকা শিশুদের আকস্মিক অসুস্থতা কিংবা বিশেষ পরিস্থিতিতে পরিচর্যার লক্ষ্যে লোকবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার পাশাপাশি খাবার ও সার্বিক জীবনমান উন্নত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বর্তমানে কাশিমপুর, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনাসহ মোট ৮টি বিভাগীয় কারাগারে এই সুবিধা চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৭৫টি কারাগারে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে যেখানে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক থাকবে।
কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী, ছয় বছরের কম বয়সী শিশুরা তাদের মায়ের সঙ্গে কারাগারে থাকার সুযোগ পায়।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে প্রায় তিন হাজার ৮০০ জন নারী বন্দী রয়েছেন। কারাবন্দী এসব নারীদের সাথে ৩৫০টি শিশু রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, কারাবন্দী নারীদের সাথে থাকা দুগ্ধপোষ্য শিশুদের জন্য দুধের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়তি পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। পাশাপাশি মায়েদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে শিশুদের পোশাক এবং ঈদ, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের মতো বিশেষ দিনে নতুন কাপড় দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, তিন বছরের বেশি বয়সী শিশুদের ডে-কেয়ার সেন্টারে প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি নাচ, গান ও চিত্রাঙ্কণ শেখানো হয়। শিশুদের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে ছোট খেলার মাঠ, শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি ও নানা সরঞ্জাম রাখা হয়েছে।
অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মেছবাহুল আলম সেলিম জানান, কারাবন্দী নারীদের শিশু সন্তানদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে শিগগিরই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স বৃদ্ধি ও ফার্মাসিস্ট নিয়োগের আশা করছেন তারা।
তিনি জানান, দেশের ৭৫টি কারাগারে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন ও ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক নিয়োজিত রাখার কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকারের উদ্যোগে বন্দীদের সংশোধন, উন্নয়ন ও পুনর্বাসনমূলক নানা কাজ চলমান রয়েছে।

গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, এই বিশেষায়িত নারী কারাগারে বর্তমানে ৮১৩ জন বন্দীর সঙ্গে ৬০ জন শিশু সন্তান রয়েছে। সেখানে শিশু সন্তানদের চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ডে-কেয়ার সেন্টার ও নার্স বৃদ্ধির কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, বন্দীদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিং ও মানসিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালু রয়েছে।