বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি আগামী ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে ২৮ অক্টোবর সকালের মধ্যে ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত হানার আশঙ্কা আপাতত কম হলেও এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে পাকা ধান দ্রুত কেটে নিরাপদ স্থানে রাখার পরামর্শ দিয়েছে বেসরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)।
বিডব্লিউওটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে এবং পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে পূর্বাভাসটি প্রাথমিক পর্যায়ের; পরিস্থিতির পরিবর্তনে ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ, শক্তি ও আঘাতের সময় বদলে যেতে পারে।

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাবে ২৭ ও ২৮ অক্টোবর থেকে ১ ও ২ নভেম্বরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে পাকা ধান ভিজে নষ্ট হওয়া, শিষে অঙ্কুরোদ্গম এবং গাছ মাটিতে হেলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই পাকা ধান আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে কেটে নিরাপদ স্থানে রাখার পরামর্শ দিয়েছে বিডব্লিউওটি।
কৃষকদের জমিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা এবং ফসল, বীজ ও সার বৃষ্টির পানি থেকে সুরক্ষিত রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। শীতকালীন সবজি চাষ ও বীজতলা তৈরির ক্ষেত্রে বৃষ্টি থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।

এদিকে, সম্ভাব্য দুর্যোগে উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গভীর সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।