দেশের প্রথিতযশা সার্জন ও ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর)। মেডিকেল শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই চিকিৎসক বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০০৭ সালের ১৬ অক্টোবর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে ৬৬ বছর বয়সে প্রথিতযশা এই চিকিৎসক মারা যান। তাঁর পারিবারিক বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌরসভার শিলাসী এলাকায়।
অধ্যাপক হাদী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) সভাপতি এবং বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। এছাড়া, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের স্ট্যান্ডিং রিকগনিশন কমিটির চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এই চিকিৎসক।

তিনি খুলনা সদর হাসপাতাল ও নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে ১৯৭৩ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত কনসালট্যান্ট সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। সেখানে ইউরোলজির অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত কলেজটির অধ্যক্ষ ছিলেন।
অধ্যাপক এম এ হাদী ২০০১ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৬ সালের ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়া, ২০০৩ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বিসিপিএসের সভাপতি এবং ২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।

চিকিৎসক তৈরির পাশাপাশি উচ্চতর চিকিৎসাশিক্ষার প্রসার ও দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। চিকিৎসক, শিক্ষক, সার্জন ও প্রশাসক হিসেবে দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশের চিকিৎসা অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। পাকিস্তান কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস তাঁকে সম্মানসূচক এফসিপিএস ডিগ্রি প্রদান করে।