দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে কর্মরত এন্ট্রি-লেভেল বা তরুণ চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা, ন্যায্য পারিশ্রমিক ও টেকসই কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রাইভেট মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ, কর্পোরেট হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত জুনিয়র চিকিৎসকদের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড ও মানসম্মত বেতন কাঠামো প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিস্তৃত আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সকল অংশীজনের সম্মিলিত ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের (এনএইচএ) সিনিয়র জয়েন্ট অর্গানাইজার ডা. মনিরুজ্জামান এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে তরুণ চিকিৎসকদের ন্যায্য অধিকার, পেশাগত নিরাপত্তা এবং আর্থিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি সমন্বিত ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিবৃন্দ, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্স, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন, প্রাইভেট হাসপাতাল মালিক সমিতি, এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলসহ (বিএমডিসি) স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় অংশীজন ও নেতৃবৃন্দ। সভায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা একমত পোষণ করেন যে, বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের এন্ট্রি-লেভেল চিকিৎসকদের জন্য একটি সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।
সংশ্লিষ্টরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, চিকিৎসকের মর্যাদা রক্ষা করার মাধ্যমে মূলত দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকেই শক্তিশালী করা হয়। এই বিশেষ উদ্যোগটি মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তরুণ চিকিৎসকদের কর্মপ্রেরণা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে, দক্ষ মানবসম্পদ ধরে রাখা সহজ হবে, বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে পেশাগত উৎকর্ষতা আরও বিকশিত হবে এবং সর্বোপরি দেশের সাধারণ জনগণ আরও মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা লাভ করতে সক্ষম হবে।