রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকির কার্যালয়ে ঢুকে তাকে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহিদ হাসান রিপকের পদ স্থগিত করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে তার কক্ষের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকির অভিযোগ করেন, বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের নেতাকর্মীরা মব সৃষ্টি করে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি তখন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অফিসিয়ালি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
এদিকে, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ড্যাবের মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ঘটনায় জড়িত প্রধান ব্যক্তির প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করেছি এবং তাকে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময় দিয়েছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। আমরা যে ভিডিওটি পেয়েছি, তাতে আপাতত একজনকেই দেখা যাচ্ছে। তাই প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি বিস্তারিত অনুসন্ধান করবে এবং ঘটনাটি কেন ঘটেছে, এর পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখবে। কারণ, এ ধরনের ঘটনা নিশ্চয়ই হঠাৎ করে ঘটেনি। এর নেপথ্যে কোনো কারণ আছে কি না, সেটিও আমরা তদন্ত করে দেখব।
অধ্যাপক ডা. কাজী আহমেদ জাকি নিজেও ড্যাবের আজীবন সদস্য উল্লেখ করে সংগঠনটির মহাসচিব বলেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুজনই ড্যাবের সদস্য। পরিচালক জাকি এবং অভিযুক্ত দুজনই ড্যাবের আজীবন সদস্য। ফলে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।

ডা. জহিরুল আরও জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই প্রতিষ্ঠানের একটি প্রকল্পে চাকরি করতেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁকে সম্প্রতি চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে এ ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, কিংবা এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা আমরা জানার চেষ্টা করছি।
এর আগে, অধ্যাপক কাজী আহমেদকে মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তিনি তার কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করছেন। এ সময় ৮-৯ ব্যক্তি কাজী আহমেদের কক্ষে ঢোকে তাকে চেয়ার থেকে টেনে উঠিয়ে নিয়ে মারধর শুরু করেন।