আজ ১০ অক্টোবর (শনিবার) স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ যৌথভাবে সংলাপ ও গোলাপি শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে। এছাড়া, স্তন ক্যানসারের বৈশ্বিক ও জাতীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সংলাপ আয়োজিত হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই জাতীয় পর্যায়ে স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। তারা জানান, দেশে নারীরা বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। সঠিক সময়ে শনাক্ত না হওয়ায় এবং সচেতনতার অভাবে প্রতি বছর বহু নারীর মৃত্যু হচ্ছে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম ২০১৩ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বেসরকারিভাবে স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস পালন করে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে অক্টোবর মাসজুড়ে স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়।
স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী এবং গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যানসার হাসপাতালের প্রকল্প সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে যদি শনাক্ত করা হয়, তবে স্তন ক্যানসারের ৯০ শতাংশ রোগীর সঠিক এবং সম্পূর্ণ চিকিৎসার মাধ্যমে সেরে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

আইএআরসি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে ডা. হাবিবুল্লাহ জানান, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১২,৭৬৪ জন নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং ৬৮৪৪ জন মারা যান।
তার ভাষ্য, প্রাথমিক পর্যায়ে যদি স্তন ক্যানসার ধরা পড়ে তবে এটি নিরাময়ের সম্ভাবনা বেশি থাকে, যা নারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনে। বাংলাদেশের মতো স্বল্প সম্পদের দেশে দামি মেশিনের চেয়ে সচেতনতা, নিয়মিত সেলফ এক্সামিনেশন, মায়েদের বুকের দুধ খাওয়ানো এবং তৃণমূল পর্যায়ে কম খরচে স্ক্রিনিং ক্যাম্পই পারে মৃত্যুহার কমাতে।