Back to home

গোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে মানসিক চাপে থেকে আত্মহত্যার প্রবণতা

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, যার ২০ শতাংশেরও বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের। এই ভয়াবহ চিত্র সত্ত্বেও গোবিপ্রবিতে কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ড

ডক্টর টিভি রিপোর্ট

September 29, 2026

গোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে মানসিক চাপে থেকে আত্মহত্যার প্রবণতা
ফাইল ফটো

প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর বিদ্যাপীঠ গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) তীব্র হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট। একাডেমিক চাপ, সেশনজট, চাকরির চিন্তা এবং ব্যক্তিগত নানা সংকটে শিক্ষার্থীরা দিশেহারা হয়ে পড়লেও ক্যাম্পাসে নেই কোনো স্থায়ী কাউন্সেলিং ব্যবস্থা। পেশাদার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট না থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম অবহেলার শিকার হচ্ছেন, যা অনেককে আত্মহত্যার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, পড়াশোনার চাপ, পরীক্ষার কাঙ্ক্ষিত ফল না আসা, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা, পারিবারিক সংকট, আর্থিক টানাপোড়েন ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে অনেকেই তীব্র মানসিক উদ্বেগে ভোগেন। বন্ধুমহলে এসব নিয়ে কথা বললেও প্রয়োজনের সময় সঠিক পেশাদার দিকনির্দেশনা পাওয়া যায় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, "শারীরিক অসুস্থতার মতো মনেরও চিকিৎসা প্রয়োজন। মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ পাওয়া গেলে অনেক বড় অঘটন এড়ানো সম্ভব।"

মানসিক সংকট বাড়ছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে
আরও পড়ুন মানসিক সংকট বাড়ছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছরে ক্যাম্পাসে আত্মহত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর ইতিহাস বিভাগের ইয়াসমিন খাতুন এবং ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর আবদুল্লাহ আল নোমান আত্মহত্যা করেন। চলতি ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ বাংলা বিভাগের দীপা দাশ ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এছাড়া ২০২২ সালে অর্থনীতি বিভাগের পল্লবী মন্ডল, ২০২০ সালে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের মনীষা হীরা, ২০২৩ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের রিক্তা খানম নোভা এবং আইন বিভাগের অনুপম শিকদার আত্মহননের পথ বেছে নেন।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আঁচল ফাউন্ডেশন’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, যার ২০ শতাংশেরও বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের। এই ভয়াবহ চিত্র সত্ত্বেও গোবিপ্রবিতে কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. লিখন চন্দ্র বালা বলেন, "শিক্ষার্থীরা প্রায়ই মানসিক সমস্যা নিয়ে আসেন। কিন্তু প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া আমাদের করার কিছু থাকে না। ক্যাম্পাসে দ্রুত সাইকিয়াট্রিস্ট ও সাইকোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।" মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান সানজিদা কবির জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েছেন। অতিরিক্ত মানসিক চাপ শিক্ষার্থীদের ভুল সিদ্ধান্তের দিকে ধাবিত করে বিধায় একে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সহজে রক্ত সংগ্রহের ওয়েবসাইট চালু করল জাকসু
আরও পড়ুন সহজে রক্ত সংগ্রহের ওয়েবসাইট চালু করল জাকসু

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক গাজী মাহবুব জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কাউন্সেলর নিয়োগের কোনো সুনির্দিষ্ট পদ নেই, যা নতুন করে তৈরি করতে প্রশাসনিক কিছু জটিলতা রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা চাইলে বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করা হবে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে বিভাগীয় ছাত্র উপদেষ্টাদের সঙ্গে কথা বলতে পারলেও, তা পেশাদার সেবার বিকল্প হয়ে উঠতে পারছে না।

শিক্ষার্থীদের দাবি—ক্যাম্পাসে অবিলম্বে একটি সার্বক্ষণিক কাউন্সেলিং সেন্টার স্থাপন করা হোক, যেখানে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা রক্ষা করে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

Share

আরও জানুন

ব্রেকিং সহজে রক্ত সংগ্রহের ওয়েবসাইট চালু করল জাকসু
শিক্ষাঙ্গন

সহজে রক্ত সংগ্রহের ওয়েবসাইট চালু করল জাকসু

ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি বা বিভিন্ন মাধ্যমে পোস্ট দেওয়া ছাড়াই সহজে রক্তদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আগ্রহী শিক্ষার্থীরা বড় একটি ডেটাবেজে যুক্ত হলে জরুরি সময়ে রক্ত পাওয়া আরও সহজ হবে।

ডক্টর টিভি রিপোর্ট 17 Sep