রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে তাণ্ডব চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় শাহ আলী থানার ওসির দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শাহ আলী থানার ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার গ্রেপ্তারদের রাজনৈতিক পরিচয় আমলে নেবে না বলেও জানান তিনি।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া রাড্ডা টিকা কেন্দ্রে হামলা করা হয়। রাতের আধারে হামলার পর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা।

ঘটনার পরদিন শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ক্লিনিকের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় হানিফ মিয়া নামে একজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও প্রায় ২৫০ জনকে আসামি করা হয়।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলার পর ক্লিনিকের জায়গায় ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক সেন্টারটিতে প্রবেশ করে। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্ব পালনরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আব্দুল হাইকে (৬৩) মারধর করে বেঁধে আটকে রাখে। পরে হামলাকারীরা হ্যামার দিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশের প্রায় ২৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৫ ফুট প্রস্থের একটি সেমিপাকা ঘর ভেকু দিয়ে ভেঙে ফেলে। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর, পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেয়ার আরেকটি সেমিপাকা ঘর ও এর আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জনান পুলিশ। ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের ব্যবহৃত প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ ও ১৭ ফুট প্রস্থের সেমিপাকা ঘর এবং সেখানে থাকা আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া, প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রস্থের রেজিস্ট্রেশন শাখায় ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়। সবশেষে আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের পাকা ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। এতে আরও প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি ও তিনটি স্টিলের আলমারি নিয়ে যায়। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।