দেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দিন দিন মানসিক সংকট বাড়ছে। পড়াশোনার চাপ, পরীক্ষাভীতি, ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তা, পারিবারিক প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারা, সামাজিক অসমতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে মানসিক সংকটে থাকেন শিক্ষার্থীরা। বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাসহীনতাসহ নানা ধরনের মানসিক চাপের সঙ্গে লড়ছেন অনেক শিক্ষার্থী।
এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কাউন্সেলিং নিশ্চিত করতে স্কুলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের কথা ভাবছে সরকার। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিষয়টি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। অথচ কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য তাদের শেখার ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সামাজিক যোগাযোগ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক চাপ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সেবা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
তাদের মতে, মানসিক চাপ থেকেই অনেক শিক্ষার্থী নিজের জীবনকে অসহনীয় ও যন্ত্রণাময় মনে করতে শুরু করে। একপর্যায়ে তারা জীবন থেকে সরে যেতে চায়।
মানসিক সংকটে থাকা এক শিক্ষার্থী বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে নিজের সমস্যাগুলো ভাগ করে নিলে মন কিছুটা হালকা হয়। শিক্ষক, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যেকোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাইদুল ইসলাম বলেন, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইবার বুলিং বাড়ছে। একই সঙ্গে বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, ট্রমা, মানসিক চাপ ও নানা ধরনের দ্বন্দ্বও তরুণদের মধ্যে বাড়ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পেশাদার সহায়তা প্রয়োজন। এ জন্য বিভিন্ন খাতের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, আচরণ সংশোধন ও কাউন্সেলিংয়ের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষকদের কাউন্সেলিংয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও ভাবা হচ্ছে।

তিনি জানান, উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর ব্যবস্থা করা যায় কি না এবং সেখান থেকে স্কুলগুলোকে সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে একটি আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।