বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে নার্সদের পেশাগত নিবন্ধন (লাইসেন্সিং) পরীক্ষা। তবে, এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মোট শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দেশে প্রয়োজনীয় নার্সদের সংখ্যায় অনেক কম।
আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকায় আটটি কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় সারাদেশের ২১ হাজার ৬২৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের চিকিৎসাসেবার মান অসন্তোষজনক হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো নার্সদের সংকট
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রতি চারজন রোগীর জন্য একজন নার্স এবং প্রতি একজন চিকিৎসকের সঙ্গে তিনজন নার্সের প্রয়োজন। সেই হিসেবে, জনসংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশে এখন প্রায় তিন লাখ সাড়ে ১০ হাজার নার্স থাকা দরকার।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে মাত্র ৫৬ হাজার ৭৩৪ জন নার্স কর্মরত আছেন; যা প্রয়োজনের চেয়ে প্রায় ৮২ শতাংশ কম।

নার্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ হাজার নার্স প্রফেশনাল পরীক্ষা দিয়ে সরকারি চাকরির জন্য অপেক্ষা করছেন।
নার্সেস প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত সিনিয়র নার্সরা জানান, শুক্রবার অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ২১ হাজার ৬২৪ জন অংশ নিলেও এখান থেকে সবাই পাস করার নিশ্চয়তা নেই। যদিও ৭০ শতাংশ (১৫ হাজার ১৩৬) নার্সও লাইসেন্সিং পরীক্ষায় কৃতকার্য হলে বেকার নার্সের সংখ্যা দাঁড়াবে ৬৫ হাজারের কিছু বেশি। এরা সবাই সরকারি চাকরির জন্য অপেক্ষা করবেন।

কিন্তু এতো সংখ্যক নার্স সরকারি চাকরির জন্য অপেক্ষা করলেও সরকারিভাবে পদ সৃজন করা হচ্ছে খুবই ধীরগতিতে। ২০২৫ সালের মে মাসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে মাত্র পাঁচ হাজার নার্সের পদ সৃজন করা হয়েছিল। এরপর আর কোনো পদ সৃজন করা হয়নি।