৫১তম বিসিএসের (স্বাস্থ্য) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এতে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা আগের মতোই ৩২ বছর বহাল রয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ৫১ তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি।
আগামী ১ অক্টোবর থেকে আবেদন শুরু হবে। আবেদন জমাদানের শেষ তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০২৬।
পিএসসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিশেষ এই বিসিএসের মাধ্যমে মোট পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে চার হাজার ৭০০ জন সহকারী সার্জন এবং ৩০০ জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেওয়া হবে।
চলতি বছরের ৫ এপ্রিল বিসিএসসহ সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৩২ বছর নির্ধারণ করে জাতীয় সংসসে বিল পাস হয়। এর আগে, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার ‘সরকারি চাকরি আইন’ সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করেছিল।

কিন্তু চিকিৎসকদের দাবি ও আন্দোলন স্বত্তেও বিসিএসে তাদের আবেদনের বয়সসীমা দুই বছর না বাড়িয়ে আগের মতো ৩২ বছর ই বহাল রেখে ৫১তম বিসিএসের (স্বাস্থ্য) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পিএসসি।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় মেডিকেল শিক্ষা (এমবিবিএস ও বিডিএস) ছাড়া সাধারণ ও প্রকৌশলসহ প্রায় সব ধরনের স্নাতক (অনার্স) ডিগ্রি সম্পন্ন করতে চার বছর সময় লাগে। অন্যদিকে, মেডিকেলে এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করতে ইন্টার্নশিপসহ ন্যূনতম ছয় বছর সময় লাগে। অর্থাৎ অন্যদের তুলনায় মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ব্যাচেলর (স্নাতক) ডিগ্রি সম্পন্ন করতে দুই বছর সময় বেশি লাগে।

সে হিসেবে, পূর্বে যখন বিসিএসসহ সরকারি চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর ছিল, তখন চিকিৎসকদের জন্য বিসিএসে (স্বাস্থ্য) আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল ৩২ বছর।
জুলাই গণঅভ্যত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পলায়নের পর চাকরিপ্রার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিসিএসসহ সরকারি চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর নির্ধারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। পরে চলতি বছরের ৫ এপ্রিল জাতীয় সংসদের তা বিল আকারে পাস হয়।

অন্তর্বর্তী সরকার সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করার পর মেডিকেল শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকরা বিসিএসে (স্বাস্থ্য) আবেদনের বয়সসীমা ৩৪ বছর করার দাবি জানান।
এ দাবিতে তখন আন্দোলন ও মানববন্ধন করে চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগঠন। চিকিৎসকরা জানান, এমবিবিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করতে অন্যদের তুলনায় অন্তত দুই বছর সময় বেশি লাগে। ফলে স্বাস্থ্য ক্যাডারে বয়সসীমা ৩৪ বছর করার দাবি জানান তারা।

তাদের ভাষ্য, সাধারণ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তুলনায় দুই থেকে তিন বছর অতিরিক্ত সময়ে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর অসম এক প্রতিযোগিতায় নামতে হচ্ছে তাদের।
তারা আরও জানান, তাদের গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে সাধারণত ন্যূনতম ছয় থেকে সাড়ে ছয় বছর লেগে যায়। অন্যরা এক্ষেত্রে চার বছরেই শেষ করে ফেলে। ফলে চাকরির বয়সের ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে দুই বছর পিছিয়ে থাকেন তারা।
বিসিএসে চিকিৎসকদের বয়সসীমা ৩৪ বছর করতে ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেমের সঙ্গে বৈঠক করে।

ওই বৈঠকে অধ্যাপক মোবাশ্বের জানান, বিসিএসে চিকিৎসকদের বয়সসীমা ৩৪ বছর করতে পিএসসির কোনো আপত্তি নেই। তিনি তখন জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবে আলোচনা করে বিসিএসে চিকিৎসকদের বয়স ৩৪ বছর করার বিষয়ে সমাধানের উদ্যেগ নেওয়া হবে। আর এতে পিএসসির কোনো আপত্তি নেই।
এর আগে, সে বছরের ৫ ডিসেম্বর পিএসসির চেয়্যারম্যান স্বাস্থ্য বিষয়ক গণমাধ্যম মেডিভয়েসকে বলেন, একজন চিকিৎসক বিসিএসে অংশ নিতে গড়ে আট বছর সময় পান। অন্যরা পাচ্ছেন দশ বছর। সে হিসাবে সরকার চাইলে তাদের বয়সসীমা আরও বাড়ানো যেতে পারে।