নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গাড়ি চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা দেওয়ার তিন দিনব্যাপী এক বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ও জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ভিশনস্প্রিং ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক ভবনে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রেল, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ বলেন, "সাধারণত সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়ন ও ট্রাফিক আইন প্রয়োগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে একজন চালকের দৃষ্টিশক্তিও নিরাপদ সড়কের অন্যতম মৌলিক উপাদান"।

তিনি আরও জানান, তিন দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে প্রথম দফায় প্রায় ২০০ জন চালককে চক্ষুসেবা ও বিনামূল্যে চশমা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আধুনিক সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চালকদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করার এবং ট্রাফিক আইন মেনে নিরাপদ গতিতে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক চালকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, চালকদের আই টেস্ট, রক্তচাপ ও ডোপ টেস্টের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর পর বিশ্রামের জন্য দেশের চারটি জেলায় আধুনিক বিশ্রামাগার তৈরি করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ডিটিসিএ-এর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, "দৃষ্টিশক্তি কম থাকা কোনো চালক গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে বসলে চালক, যাত্রী ও পথচারী সবার নিরাপত্তাই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তাই চালকদের ভালো দৃষ্টিশক্তি থাকা অপরিহার্য"।
অনুষ্ঠানে ভিশনস্প্রিংয়ের সহযোগী ব্যবস্থাপক উম্মে সালমা জানান, তাদের সংস্থার ‘সি-টু-বি-সি’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রায় ৮ লাখ চালকের চোখ পরীক্ষা এবং তার মধ্যে ৪ লাখ চালককে বিনামূল্যে চশমা দেওয়ার একটি বৃহৎ লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ভিশনস্প্রিং মূলত একটি অলাভজনক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, যা বিশ্বজুড়ে স্বল্পআয়ের মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে চশমা ও দৃষ্টিসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করে।