ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে করোনা মহামারির সময় চিকিৎসা ও সুরক্ষাসামগ্রী কেনাকাটায় অনিয়মের মাধ্যমে ১২ কোটি ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
গতকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুদকের সচিব মোহাম্মদ সাইদুর রহমান খান মামলা অনুমোদনের বিষয়টি জানান।
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- কোভিড ১৯ প্রকল্পের পিডি ডা. মো. ইকবাল কবির, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. সানিয়া তাহমিনা ঝোরা, অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, সাবেক সহকারী পরিচালক ডা. মো. শরিফুল হাসান, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. আনোয়ার সাদাত ও মেডিকেল অফিসার ডা. অনির্বান সরকার।

এছাড়া, জাদিদ অটোমোবাইলসের প্রোপাইটার কাজী শামীমুজ্জামান, ই-মিউজিকের প্রোপাইটর হোসনী ইব্রাহিম, ব্রেন স্টেশন ২৩ লিমিটেড প্রোপাইটার রইসুল কবীর, ইনশা ট্রেড করপোরেশন প্রোপাইটর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলন, সিম করপোরেশনের ম্যানেজিং পার্টনার মোস্তফা মনোয়ার, এসআরএস ডিজাইন অ্যান্ড ফ্যাশন লিমিটেড প্রোপাইটর সাইফুর রহমানকে অনুমোদিত মামলার আসামি করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, কোভিড-১৯ মহামারির সময় নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই, হাসপাতালের সরঞ্জাম ও বিভিন্ন সেবা ক্রয় ও সরবরাহে অনিয়ম এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এসব মামলা করা হয়েছে।
এর আগে, তদন্তে জাহিদ মালেকসহ ১৩ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছিল সংস্থাটি।

দুদকের অনুসন্ধানে কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যান্ডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস (ইআরপিপি) প্রকল্পের ছয়টি প্যাকেজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় মোট ১২ কোটি ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলা করার সুপারিশের পর কমিশন মামলাগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দুদক জানায়, প্রকল্পের আওতায় কেএন৯৫ (কঘ৯৫) ও এন৯৫ (ঘ৯৫) মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, হাসপাতাল বেড, চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল সামগ্রী, টিভিসি প্রচার, মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবা ক্রয় করা হয়। এসব ক্রয়ে পরস্পর যোগসাজশ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

এর মধ্যে প্রথম মামলায় ৩ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ টাকা, দ্বিতীয় মামলায় ১ কোটি ৪৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, তৃতীয় মামলায় ৯৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা, চতুর্থ মামলায় ৬২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭০ টাকা, পঞ্চম মামলায় ২ কোটি ১৬ লাখ ৯৭ হাজার ৬১৫ টাকা ৫০ পয়সা এবং ষষ্ঠ মামলায় ৩ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।