প্রতি ১০ জন পুরুষের মধ্যে একজন প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তারা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় এর নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। রোগ শনাক্ত হতে দেরি হলে তা শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সের পর পুরুষদের প্রোস্টেটের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো লক্ষণ প্রকাশ ছাড়াই প্রায় দুই দশক ধরে প্রোস্টেট ক্যান্সার শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। বর্তমানে এটি পরীক্ষা করার আলাদা কোনো পদ্ধতি নেই। চিকিৎসকরা মূলত বায়োপসি ও পিএসএ টেস্টের সমন্বয়ে এটি নির্ণয় করেন।
প্রোস্টেট ক্যানসার সচেতনতা মাস উপলক্ষে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজের শহীদ মিলন চত্বরে র্যালি ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জন্স (বিএইউএস) ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগ যৌথভাবে এর আয়োজন করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রোস্টেট ক্যানসারের ক্ষেত্রে সচেতনতা ও সময়মতো রোগ শনাক্ত করাই বড় বিষয়। দেরি হলে চিকিৎসা জটিল হয়ে যেতে পারে; আর শুরুতেই শনাক্ত করা গেলে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময়ের সুযোগ অনেক বেশি।
আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রোস্টেট ক্যানসার পুরুষদের মধ্যে দেখা দেওয়া অন্যতম প্রধান ক্যানসার। আমরা লক্ষ্য করি, ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষরা প্রায়ই প্রস্রাব সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন। এ সময় তাদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে কি-না, তা বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রোস্টেট ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ স্পষ্ট না থাকা উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোগটি যদি সময়মতো শনাক্ত করা যায়, তাহলে এর কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে। দ্রুত রোগ নির্ণয় ও যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে একজন প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সের পর পুরুষদের প্রোস্টেটের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সভায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন বলেন, আজকের এই সচেতনতা মাসের মূল উদ্দেশ্য হলো—জনসাধারণ যেন প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে আসেন এবং চিকিৎসকেরাও যেন রোগটি প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করতে পারেন। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হলে বাংলাদেশের মানুষ কম কষ্ট ও ভোগান্তির মধ্য দিয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হতে পারবেন।
প্রোস্টেট ক্যানসারের ক্ষেত্রে অনেক সময় দেরিতে রোগ নির্ণয়ের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্ত করুন। সময়মতো চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন উপভোগ করুন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জন্সের (বিএইউএস) আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, প্রোস্টেট ক্যানসার এমন একটি রোগ, যা সময়মতো শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জন্সের সায়েন্টিফিক পার্টের সদস্য ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. নাছির উদ্দিন কাজল বলেন, প্রোস্টেট ক্যানসারে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে অত্যন্ত কার্যকর ও নিরাময়মূলক চিকিৎসা সম্ভব। প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।