ঢাকার মহাখালীতে আইসিডিডিআর,বি হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও সেবার মান নিয়ে নিজের মনোমুগ্ধকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন এক ব্যক্তি। একই সঙ্গে হাসপাতালটির চিকিৎসক ও নার্সসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক সেবায় মুগ্ধ হয়ে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ওই ব্যক্তি।
মহাখালী কলেরা হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক সেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওই ব্যক্তি লেখেন, ‘যে আমি হাসপাতালের পরিবেশের কারণে কখনো (হাসপাতালে) যেতে চাইতাম না, সেই আমার এখান থেকে বের হতে মন চাচ্ছে না।’
জানা যায়, রাজধানীর মধ্য বাড্ডার আদর্শ নগর এলাকা বাসিন্দা মো. মাসউদুর রহমান তার এক বন্ধুকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আইসিডিডিআর,বি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে গত ২৯ আগস্ট হাসপাতাল ত্যাগের পূর্বে অভিযোগ ও পরামর্শ বাক্সে দুই পৃষ্ঠাজুড়ে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা লেখেন তিনি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আইসিডিডিআর,বি হাসপাতালের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দুই পৃষ্ঠার চিরকুটের ছবি শেয়ার করা হয়।
ছবিতে দেখা যায় চিরকুটের শুরুতেই হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মাচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মাসউদুর রহমান।
তিনি জানান, হাসপাতালটিতে তার বন্ধুকে নিয়ে যাওয়ার পরপরই টিকিটের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার আগেই রোগীর জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। চিকিৎসাসেবার মান, হাসপাতালের কর্মীদের আন্তরিকতা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশও তাঁকে মুগ্ধ করেছে বলে জানান তিনি।

চিরকুটে মাসউদুর রহমান লেখেন, সোজা হাসপাতালের গেইটের সামনে চলে আসি। তারপর যা ঘটল; সেটা দেখে আমি রীতিমতো অবাক হলাম! আসার সাথে সাথেই স্টাফরা তড়িঘড়ি করে রোগীকে নামিয়ে নিয়ে স্যালাইন লাগিয়ে দিলেন; তখনো আমার টিকিট কনফার্ম হয়নি।
তিনি আরও লেখেন, তারপর যত সময় যাচ্ছিল ততই যেন নতুন কিছু দেখছিলাম। চিকিৎসক-নার্সসহস সকলের আন্তরিকতা এবং তাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা; যা বলার ভাষা নেই। সকলকে জানাই অসংখ্য শুকরিয়া।

এদিকে, চিরকুট দুটির ছবি দিয়ে হাসপাতালটির ফেসবুক পেজে লেখা হয়, প্রতিদিন আইসিডিডিআর,বির ঢাকা হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, অ্যাটেনডেন্ট ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ অসংখ্য কর্মী নীরবে ও নিরলসভাবে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের অনেক কাজই থাকে লোকচক্ষুর আড়ালে। তাই একজন রোগী বা স্বজনের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অভিজ্ঞতা তাঁদের নিষ্ঠা, মানবিকতা ও পরিশ্রমের মূল্যবান স্বীকৃতি হয়ে ওঠে।
পোস্টে আরও লেখা হয়, এটি অবশ্য প্রথমবার নয়। এর আগেও হাসপাতালটির সেবায় মুগ্ধ হয়ে মানিকগঞ্জের এক বাবা ছয় পৃষ্ঠার একটি কবিতা লিখেছিলেন। রোগী ও স্বজনদের এমন আন্তরিক স্বীকৃতি মানসম্মত ও মানবিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পথে হাসপাতালের কর্মীদের আরও উৎসাহিত করে।

পোস্টের সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জের বাসিন্দা ফারুক হোসেইন নামের এক চা দোকানি ২০২২ সালের নভেম্বরে কলেরায় আক্রান্ত মুমূর্ষু সন্তান ইব্রাহীমকে নিয়ে আইসিডিডিআর,বির হাসপাতালে আসেন। সন্তান আইসিইউতে চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সময় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা ও কর্মীদের আচরণে মুগ্ধ হয়ে তিনি একটি কবিতা লেখেন।
ফারুক হোসেইন জানান, সন্তানের সুস্থ হয়ে ফিরে যাওয়ার মুহূর্তে আইসিডিডিআর,বির চিকিৎসা ও সেবার প্রতি কৃতজ্ঞতার স্মৃতি ধরে রাখতেই তিনি কবিতাটি লিখেছিলেন।