রাজধানীর পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি ও অবহেলার অভিযোগ করেছেন শিশুটির এক স্বজন। তবে এ ঘটনায় হাসপাতাল পরিদর্শনের পর প্রাথমিকভাবে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
অন্যদিকে, হাসপাতালের পিআইসিইউ কক্ষে ভাঙচুর করাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান। তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইলে এ বিষয়ে আইনগত সহযোগিতা নিতে পারে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান এবং ধানমন্ডির সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল ফেরদৌস পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে অধ্যাপক জাহিদ রায়হান সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা হাসপাতালের কোনো অবহেলা খুঁজে পাইনি। শিশুটি বেশ কয়েকটি জটিল রোগে ভুগছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে লাইভটি ভাইরাল হয়েছে, সেটি করা ব্যক্তি শিশুটির নিকটাত্মীয় নন; তিনি একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। পিআইসিইউ কক্ষে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়ে ফৌজদারি অপরাধ করেছে তারা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইলে এ বিষয়ে আইনগত সহযোগিতা নিতে পারে।
তিনি আরও জানান, তদন্ত দল বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখছে এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত করা হচ্ছে। হাসপাতালটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ফি আদায় ও দালালদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।

ঘটনার সময় হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না স্বজনদের এমন দাবিকে মিথ্যা উল্লেখ করে ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেন, ঘটনার সময় কনসালটেন্ট ডা. নাজমুল হকসহ দুজন চিকিৎসক হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। তবে হট্টগোল শুরু হলে নিরাপত্তার কারণে চিকিৎসকরা অন্য একটি কক্ষে অবস্থান নেন।
হাসপাতালের পিআইসিইউ ও এনআইসিইউ পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব ইউনিট নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে। হাসপাতালের অবকাঠামোতে কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না, সেখানে পিআইসিইউ ও এনআইসিইউ পরিচালনা যথাযথ কি না এসব বিষয়ও তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে, গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়। এর পরপরই মধ্যরাতে নিহত শিশুর স্বজন আসিফ হাসান ফেসবুক লাইভে এসে হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার গুরুতর অভিযোগ করেন।
আসিফ জানান, ডায়াবেটিসজনিত জটিলতার কারণে শিশু আয়ান গত ১৩ দিন ধরে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। মৃত্যুর দিন দুপুর পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল।
তার অভিযোগ, চিকিৎসার এক পর্যায়ে হঠাৎ তাদের জানানো হয় যে শিশুটিকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া প্রয়োজন। পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেয়নি এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফেসবুক লাইভে আসিফ অভিযোগ করেন, শিশুটিকে দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেখতে দেয়নি। একপর্যায়ে তারা জোর করে পিআইসিইউতে প্রবেশ করে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় ডাকাডাকি করেও কোনো চিকিৎসকের দেখা পাননি।
তবে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হক জানান, শিশুটি হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হয় এবং এক পর্যায়ে তার শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, পরের দিনই শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল আমাদের।

হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম অনিক দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তদন্তে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, উত্তেজিত স্বজনরা বেশ কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুর করেছেন এবং কয়েকজন নার্সকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন।