রাজধানীর পদ্মা জেনারেল হাসপাতালের পিআইসিইউতে থাকা ৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকের অনুপস্থিতির অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনেরা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
শিশুটির মৃত্যুর পর হাসপাতালের বিরুদ্ধে স্বজনদের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতালটি পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জাহিদ রায়হান।
এর আগে, গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়। এর পরপরই মধ্যরাতে নিহত শিশুর স্বজন আসিফ হাসান ফেসবুক লাইভে এসে হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার গুরুতর অভিযোগ করেন। ফেসবুক লাইভটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

আসিফ জানান, ডায়াবেটিসজনিত জটিলতার কারণে শিশু আয়ান গত ১৩ দিন ধরে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। মৃত্যুর দিন দুপুর পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল। তবে সন্ধ্যার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করার সময় শিশুটির শরীর ধীরে ধীরে নীল বর্ণ ধারণ করতে শুরু করে।
আসিফের অভিযোগ, চিকিৎসার এক পর্যায়ে হঠাৎ তাদের জানানো হয় যে শিশুটিকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া প্রয়োজন। পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেয়নি এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফেসবুক লাইভে আসিফ অভিযোগ করেন, শিশুটিকে দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেখতে দেয়নি। একপর্যায়ে তারা জোর করে পিআইসিইউতে প্রবেশ করে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় ডাকাডাকি করেও কোনো চিকিৎসকের দেখা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার অভিযোগ, চিকিৎসার নামে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুই লাখ টাকার বেশি বিল করেছে। শিশুটির চিকিৎসা ও মৃত্যুর বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যথাযথভাবে যোগাযোগ করা হয়নি।
এছাড়া, ফেসবুক লাইভ করার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কয়েকজন বহিরাগত এসে তাকে শাসানোর চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন আসিফ। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তবে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হক জানান, শিশুটি হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হয় এবং এক পর্যায়ে তার শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, পরের দিনই শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল আমাদের।
হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম অনিক দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তদন্তে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্মীদের উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাতে হাসপাতালে পুলিশ উপস্থিত হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, উত্তেজিত স্বজনরা বেশ কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুর করেছেন এবং কয়েকজন নার্সকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। তবে এই অভিযোগের সপক্ষে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে স্বজনরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন যে হাসপাতালের কর্মীরাই তাদের ওপর প্রথমে চড়াও হয়েছিল।
শিশুটির ময়নাতদন্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। স্বজনরা জানান, ময়নাতদন্তের জন্য আয়ানের মরদেহ কাটাছেঁড়া করা হলে তা তার মা কোনোভাবেই সহ্য করতে পারবেন না। তাই মৃত্যুর পরপরই মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে চিকিৎসায় অবহেলার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।