যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার পর বাংলাদেশে এসে ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এক রোগী। চিকিৎসার পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশ, রোগীসেবা, খাবারের মান এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনাতেও সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন তিনি।
রোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা নেওয়ার পরও তাঁর সমস্যার সমাধান হয়নি। পরে তিনি বাংলাদেশে ফিরে এসে ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসকদের পরামর্শ ও ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেন। চিকিৎসার পর নিজের অভিজ্ঞতায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি।

নিজের চিকিৎসা-অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাংলাদেশের চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ওই রোগী। একই সঙ্গে দেশে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্যের কথা জানিয়েছেন রোগী। তাঁর মতে, বাংলাদেশে চিকিৎসায় তার প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রে একই রকম চিকিৎসায় প্রায় ৩২ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারত বলে তিনি জানান।

জানা যায়, ওই রোগীর চিকিৎসায় অ্যাকিলিস টেনডন (Tendo Achilles) সংশ্লিষ্ট ছিল, যা পায়ের পেছনের calf muscle থেকে heel bone বা calcaneus-এর সঙ্গে যুক্ত একটি শক্তিশালী টেনডন। হাঁটা, দৌড়ানো এবং পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এর ভূমিকা রয়েছে।
ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ওই রোগীর সন্তুষ্টি এবং বাংলাদেশের চিকিৎসকদের প্রতি তাঁর আস্থা দেশের চিকিৎসাসেবায় মানুষের আস্থার একটি অভিজ্ঞতা হিসেবে সামনে এসেছে।

দেশের বাইরে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন বাংলাদেশে জটিল চিকিৎসা নিয়ে একজন রোগীর সন্তুষ্টির এই অভিজ্ঞতা দেশের চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে একজন রোগীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে পুরো দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার মানের একক প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।