রোগীর চিকিৎসার দেওয়ার সময়, এবং চিকিৎসা দেওয়ার পর মেডিসিন বিষয়ক বই খুলে সর্বশেষ গাইডলাইন দেখে নেওয়ার রীতি সারা দুনিয়াতেই আছে ।
ধরুন, একটি জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে একজন ব্যক্তি শ্বাসকষ্ট নিয়ে উপস্থিত হল । জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে দেখে অক্সিজেন দিলেন, এক্সরে ইসিজি ও করার উপদেশ দিলেন । অসুস্থ ব্যক্তি পরীক্ষা করার জন্য চলে গেলেন ল্যাবে । কিন্তু ডাক্তার সাহেবের মনের খচখচ কমছে না—'একজন মানুষের শ্বাসকষ্ট আর কী কারণে হতে পারে' ? এটা কি একিউট অর ক্রনিক রেনাল ডিজিজ ? ডায়াবেটিক কিটো অ্যাসিডোসিস ? তিনি বই খুলছেন ৷ সমাধানের জন্য তার শিক্ষককে ফোন করলেন।

এটা কি অন্যায় ? মোটেও নয় । এটা কি চিকিৎসা সংক্রান্ত আইনে নিষিদ্ধ ? মোটেও নয়।
বেশ কয়েক বৎসর আগের কথা । অনেক দিনের পুরানো জ্বরের উপসর্গ নিয়ে আমার কাছে এক ব্যক্তি আসলেন । তিনি বেশ কয়েকজন ডাক্তার দেখিয়েছেন, ওষুধ খেয়েছেন, কিন্তু জ্বর আর ভাল হয় না । আমি লেটেস্ট এডিশনের ডেভিডসনের প্রিন্সিপলস এণ্ড প্র্যাকটিস অব মেডিসিন বই খুললাম । Pyrexia of Unknown Origin-এর কারণগুলো অনুসন্ধ্যান করলাম । এক কোনায় লেখা Hypertriglyceridemia...।

তার রক্ত পরীক্ষা করে ঠিক এই রোগটিই পাওয়া গেল। একটি মাত্র ওষুধ লিখে দিলাম। দীর্ঘদিন ধরে জ্বরে ভোগা মানুষটা অল্প দিনেই ভাল হয়ে গেল ।
চিকিৎসকের বই (অধ্যয়ন), চিকিৎসকের চেয়ে রোগীকে অনেক বেশি উপকৃত করে। আদালতে আর্গুমেন্ট করার সময় একজন আইনজীবী যদি বিচারকের সামনে সংবিধান বা দণ্ডবিধি খুলে পড়েন, তাহলে কি বিচারক রাগ করেন ? মোটেও নয়।
একজন সরকারি কর্মকর্তার টেবিলে সার্ভিস রুলস, চাকরির বিধানাবলী বই থাকবে, এবং সময় সময় তিনি এটা খুলে পড়বেন—এটাই স্বাভাবিক ।

একজন চিকিৎসকের টেবিলে Davidson, Harrison, Baily & Love, Parveen Kumar -এর বই থাকবে । থাকতেই হবে । আমি আমার টেবিলে সর্বশেষ সংস্করণের বই রাখব, গাইডলাইন রাখব । একশ' বার পড়ব । পড়া মানেই নতুন জ্ঞানের অনুসন্ধান করা; অন্যের গবেষণালব্ধ জ্ঞান দিয়ে নিজেকে নিত্য সমৃদ্ধ করা ।
দেশের আইন কানুন ও মেডিক্যাল ইথিক্সের বিরুদ্ধে কেউ কোনো ফতওয়া দিলে সেটা গ্রহণযোগ্য নয় ।
ডা. মো. জয়নাল আবেদীন টিটো
সাবেক লাইন ডিরেক্টর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
সাবেক অধ্যক্ষ, কুষ্টিয়া সরকারি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস