হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তিনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে হঠাৎ করে পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের সার্জারি বিভাগ, বহির্বিভাগসহ বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বিভাগ ঘুরে দেখার পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে সেবার মান নিয়ে কথা বলেন।
এ সময় তাঁর সামনে এক নারী হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওই নারী প্রশ্ন করে বলেন, ‘স্যালাইন কিনতে হয়; এটা কিসের সরকারি হাসপাতাল? বেসরকারি বলে দিলেই হয়।’
ওই নারী জানান, স্যালাইনসহ ওষুধপত্র বাইরে থেকে কিনে নিয়ে আসতে হয়। এছাড়া, সাত দিন ভর্তি থাকলেও শয্যা পাননি বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোগী ও স্বজনদের অভিযোগগুলো আমলে নেন। পাশাপাশি হাসপাতালটির চিকিৎসক সংকট ও জনবল সংকট, নোংরা পরিবেশ এবং রোগীদের নানা অভিযোগীরে প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। হাসপাতালের সেবার মান দ্রুত উন্নত করতে এবং দালাল চক্র উচ্ছেদে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অবস্থা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য জেলার হাসপাতালের তুলনায় হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অবস্থা খারাপ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আগামী তিন সপ্তাহ পর সারাদেশে আবারও হাম প্রতিরোধে টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে। হাম প্রতিরোধে শিশুদের যথাযথভাবে টিকার আওতায় আনার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
হাসপাতালের ডিসপেনসারি পরিদর্শনে গিয়ে ছুটি ছাড়াই ফার্মাসিস্ট রিগান আহমেদকে অনুপস্থিত দেখতে পান মন্ত্রী। পরে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বদলি করার নির্দেশ প্রদান করেন তিনি। এছাড়া, হাসপাতালের সাময়িক বরখাস্ত মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদী হাসান প্রায় আড়াই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করায় তাকেও স্থায়ীভাবে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।