রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির (আইডিএস) নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডা. শাহনেওয়াজ সভাপতি এবং ডা. মো. রিয়াদ-উল-ইসলাম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মোট ১৯২ জন ভোটারের মধ্যে ১৪৭ জন ভোট দিয়েছেন। সে হিসাবে ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক এখনও ইন্টার্নশিপে যোগ না দেওয়ায় তাদের ভোটার তালিকা থেকে বিবেচনা করলে প্রকৃত ভোটের হার আরও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডা. খাদিমুল মুরসালিন রিয়াদ জানান, নির্বাচনে দুটি পদে সরাসরি ভোট হয়েছে। সহ-সভাপতি পদে চৈতি ১১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছেন ২৯-৩০ ভোট। অন্যদিকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী রিফাত শাহরিয়ার চৌধুরী ৭৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পেয়েছেন ৭১ ভোট।
তিনি আরও জানান, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ৯টি পদে সরাসরি ভোট হয়নি। নির্বাচনের দুদিন আগে গত ১৭ আগস্ট ‘জাহিদ-রিফাত প্যানেল’ তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানায়। ফলে এসব পদে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আরও একটি পদে শুরু থেকেই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সেটিও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পূরণ করা হয়।

নবগঠিত কমিটির ফলাফলে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়ে স্বাক্ষর করেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. আশিকুর রহমান এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আট সদস্য। ইসির সদস্যরা হলেন ডা. মনজুর, ডা. জনি ঘোষ, ডা. খাদিমুল মুরসালিন রিয়াদ, ডা. মরিয়ম, ডা. হিমেল শেখ, ডা. নূরে আলম সিদ্দিক, ডা. মনিরুল ইসলাম ও মাইমুনা মুক্তা।
নির্বাচন বয়কট জাহিদ-রিফাত প্যানেলের
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব এবং তড়িঘড়ি করে তফসিল ঘোষণার অভিযোগ তুলে ‘ঐক্যবদ্ধ চিকিৎসক পরিষদ’ জাহিদ-রিফাত প্যানেল নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেয়।
প্যানেলটির সভাপতি প্রার্থী ডা. জাহিদুল ইসলাম নির্বাচনকে ‘প্রহসনমূলক’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, একের পর এক পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা মূলত একটি প্রহসনের নির্বাচন আয়োজন করেছেন।

ডা. জাহিদুল ইসলামের দাবি, এক যুগ আগে ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের সঙ্গে বর্তমান আইডিএস নির্বাচনের কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই। তার অভিযোগ, একটি প্রহসনমূলক নির্বাচন ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ১৯ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেল নির্বাচনের দুই দিন আগে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানায়।
নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকলেও ভোটগ্রহণ নির্ধারিত দিনেই সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী একটি প্যানেল নির্বাচন বর্জন করায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অধিকাংশ পদে ভোট হয়নি এবং প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।